Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাজ্যের অর্ধেক বুথেই তালিকা প্রকাশ হয়নি! উৎকণ্ঠায় লক্ষ লক্ষ ‘বিচারাধীন’ ভোটার

রাতের অন্ধকারে চুপিসারে ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। তারপর থেকেই চলছে লুকোচুরি খেলা।

রাজ্যের অর্ধেক বুথেই তালিকা প্রকাশ হয়নি! উৎকণ্ঠায় লক্ষ লক্ষ ‘বিচারাধীন’ ভোটার
  • ২৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: রাতের অন্ধকারে চুপিসারে ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। তারপর থেকেই চলছে লুকোচুরি খেলা। কত ভোটারের নাম রয়েছে তালিকায়? কতজন বাদ পড়েছেন? সবটাই আড়ালের মরিয়া চেষ্টা। কখনো বিচার ব্যবস্থার উপর দায় চাপানো হচ্ছে। কখনো আবার বলা হচ্ছে, ‘ওয়েবসাইটেই তো সব রয়েছে।’ কিন্তু আসলে তালিকা প্রকাশের ঘোষিত সময়সীমার পর ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও রাজ্যে অর্ধেকের বেশি বুথে বিচারাধীনদের কোনো তালিকাই প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র মারফত তেমনটাই জানা গিয়েছে। ফলে ঘোর বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন ভোটাররা। তার উপর আবার বলা হচ্ছে, শুক্রবার নাকি আরও একটি তালিকা প্রকাশ করা হবে। 

Advertisement

এবারের নির্বাচনে রাজ্যে প্রায় ৮৪ হাজার বুথ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই বুথগুলিতে থাকা বিচারাধীন ভোটারদের নথি নিষ্পত্তির কাজ করছেন বিচারকরা। সোমবার পর্যন্ত প্রায় ২৯ লক্ষ ভোটারের নথি নিষ্পত্তির কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। এবং প্রথম অতিরিক্ত তালিকায় ওই সংখ্যক ভোটারের নাম প্রকাশ করার কথা ছিল কমিশনের। কিন্তু সূত্রের খবর, ৪৫ হাজারের বেশি বুথে কোনো তালিকাই প্রকাশ হয়নি। অথচ বুথগুলির বেশিরভার নথি বিচারকরা নিষ্পত্তির কাজ শেষ করে ফেলেছেন বলেই খবর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরে ১৪ হাজারের বেশি ভোটার বিচারাধীন তালিকায় রয়েছেন। কমিশনের ওয়েবসাইটে এই কেন্দ্রের ২৬৭টি বুথের তালিকা রয়েছে। তার মধ্যে শতাধিক বুথে কোনো তালিকাই প্রকাশ হয়নি! শুধু ভবানীপুরই নয়, কলকাতা বন্দর, মেটিয়াবুরুজের মতো কেন্দ্রেও একই পরিস্থিতি। শহর কলকাতার পাশাপাশি জেলাগুলির বেশিরভাগ বুথে কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তালিকা দেখতে চাইলে বলা হচ্ছে, ‘No adjudication pertaining to this part till 5 PM on 23.3.2026’... অর্থাৎ সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই বুথে কোনো বিচারাধীন নেই! অথচ সূত্রের খবর, এপর্যন্ত নাকি ৩২ লক্ষ ভোটারের আবেদন নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। আর বাদের খাতায় রয়েছে প্রায় ১৩ লক্ষ। কমিশনের এই তুঘলকি কারবার দেখে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন, কার নির্দেশে কোন তথ্য আড়াল করতে চাইছে কমিশন? তাঁরা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক সংস্থার দায়িত্ব হল, তাঁদের যাবতীয় কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সব তথ্য সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা। এটাই সাংবিধানিক রীতি। কিন্তু কীসের তাগিদে এত লুকোচুরি চলছে? পিছনে কোনো অন্য উদ্দেশ্য নেই তো? প্রশ্ন তাঁদের। এই আবহেই আবার বুধবার থেকে সাংবাদিকদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কমিশন। রাজ্যের সিইও অফিসে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষেধ হয়ে গিয়েছে। নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তাই জোরালো প্রশ্ন উঠছে, এত লুকোছাপা কেন?        
রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তো সরাসরি অভিযোগ করছে, এভাবে রাতের অন্ধকারে বিচারাধীন তালিকা প্রকাশে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে। নেপথ্যে রয়েছে গেরুয়া নির্দেশ। এসআইআর পর্ব থেকে সেই নির্দেশ কার্যকর করতে উঠে পড়ে লেগেছে কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ বলেছেন, কমিশন-বিজেপি আঁতাত স্পষ্ট। মানুষের এই হয়রানির পিছনে রয়েছে যৌথ চক্রান্ত। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ