নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জুলাই মাসে রাজ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা মোটামুটি জুন মাসের মতোই থাকবে। আশা করছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিক বা তার থেকে কিছুটা বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি এলাকা ও উত্তরবঙ্গে স্বাভাবিকের থেকে কম বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জুন মাসে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু স্বাভাবিকের থেকে কম বৃষ্টি হয়েছে উত্তরবঙ্গে। জুনের তুলনায় জুলাই মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ বেশি ধরা হয়। ফলে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ জুনের থেকে এমাসে বেশি হওয়ারই সম্ভাবনা থাকছে।
আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, আপাতত রাজ্যে, বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকবে। মৌসুমি অক্ষরেখা দক্ষিণবঙ্গের উপর আছে। আরব সাগর থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা দক্ষিণবঙ্গের কিছু অংশের উপর দিয়ে গিয়েছে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া উত্তর ওড়িশার উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত আছে। আপাতত রাজ্যেজুড়ে হাল্কা ও মাঝারি মাত্রায় বৃষ্টি চলবে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দুর্যোগ হতে পারে এরকম বেশি মাত্রায় বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত নেই। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। তবে সেটির শক্তিবৃদ্ধির সম্ভাবনা কম।
চাষআবাদ, বিশেষ করে ধান ও পাট চাষের জন্য জুলাই মাসে বৃষ্টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ধানের বীজতলা তৈরি ও রোপণের জন্য মাঠে কিছুটা বেশি জল থাকা দরকার। পাট তোলার পর তা জলাশয়ে পচানোর জন্য এইসময় বেশি বৃষ্টি খুবই কার্যকরী। জুন মাসে দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় যে মাত্রায় বৃষ্টি হয়েছে তা চাষের পক্ষে অনুকূল বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। অতিবৃষ্টিতে কিছু এলাকায় বন্যাপরিস্থিতি হলেও তখন ধানচাষ সেভাবে শুরু হয়নি। সব্জি ও অন্যান্য কিছু ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। উত্তরবঙ্গে মালদহ ছাড়া সব জেলাতেই বৃষ্টি স্বাভাবিকের থেকে অনেকটা কম হয়েছে। কিন্তু উত্তরবঙ্গে স্বাভাবিক বৃষ্টির মাত্রা যথেষ্ট বেশি। ফলে স্বাভাবিকের থেকে কিছুটা কম বৃষ্টি হলে তা চাষের পক্ষে ভালো হবে। মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। তবে দক্ষিণবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলায় জুন মাসে কম বৃষ্টিপাত কৃষি বিশেষজ্ঞদের কিছুটা উদ্বেগে রেখেছে। কারণ এই দুই জেলাতেই প্রচুর পাটচাষ হয়। পাট পচানোর জন্য জলাশয় টইটুম্বুর থাকা জরুরি।