নয়াদিল্লি: ‘শিশুর মতো হাঁটতে শিখছি।’ ড্রাগন মহাকাশযান থেকে উচ্ছ্বসিত বার্তা ভারতীয় নভশ্চর শুভাংশু শুক্লা। বৃহস্পতিবার মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছনোর আগে এভাবেই নিজের যাত্রাপথের অভিজ্ঞতা জানান তিনি। বুধবার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু করেন শুভাংশুরা। এদিন মহাকাশ স্টেশনে পা রেখেছেন শুভাংশু সহ অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনের চার সদস্য। শুভাংশুর সঙ্গে রয়েছেন পেগি হুইটসন, টিবর কাপু, ও স্লাওস উজনানস্কি-উইসনিইউস্কি। পেগি ছাড়া তিনজনই প্রথমবার মহাকাশ যাত্রা করছেন।
মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছনোর আগে বৃহস্পতিবার ‘গ্রেস’ ক্যাপসুল থেকে পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন চার নভোশ্চর। এক্স হ্যান্ডলে গোটা কথোপকথনের সরাসরি সম্প্রচার করেছে অ্যাক্সিয়ম স্পেস ও স্পেসএক্স। সেখানেই শুভাংশু বলেন, ‘মহাকাশ থেকে সবাইকে নমস্কার জানাচ্ছি। অসামান্য সফর। গতকাল লঞ্চপ্যাডে থাকাকালীন একটাই কথা মাথায় ঘুরছিল, এবার যাওয়া যাক।’ রসিকতার ছলে তিনি বলেছেন, ‘শুনলাম গতকাল থেকেই আমি নাকি শুধুই ঘুমচ্ছি। এটা খুবই ভালো। গোটা অভিজ্ঞতা উপভোগ করছি।’ মহাশূন্যে হাঁটাচলা থেকে শুরু করে খাওয়া। সবকিছুই নতুন করে শিখতে হচ্ছে। শুভাংশুর কথায়, ‘শিশুদের মতো মহাকাশে হাঁটতে, খেতে শিখছি। ভুল করা খুবই ভালো। বাকিদের সেটা করতে দেখাটাও বেশ মজার ব্যাপার। এটা খুবই ছোট একটা ধাপ। তবে ভারতের গগনযান প্রকল্পের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ কথা বলতে বলতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন টিবর। তখনই উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন শুভাংশু। বৈচিত্র্র্যের মাঝে যেন ঐক্যের এক অপূর্ব ছবি। মহাকাশ স্টেশনে ১৪ দিন থাকবেন শুভাংশুরা। সেখানে ৬০টি পরীক্ষানিরীক্ষা করবেন। আমরস থেকে শুরু করে মুগডালের হালুয়া। ভারতীয় খাবারের স্বাদ নিতে নিতেই চলবে গবেষণা।