


নয়াদিল্লি: প্রয়াত জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের শেষ রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক। বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। ৫ আগস্ট মঙ্গলবার দিল্লির রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রসঙ্গত, ছ’বছর আগে এই দিনটিতেই সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে মোদি সরকার। সেই সময় সেখানকার রাজ্যপাল ছিলেন সত্যপাল। তারপর কৃষক আন্দোলন, পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা-একাধিক বিষয়ে মুখ খুলে মোদি সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন তিনি। এদিন সত্যপালের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। শোকবার্তায় পুলওয়ামাকাণ্ডে সত্যপালের সরব হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তৃণমূল নেত্রী।
উত্তরপ্রদেশের বাঘপতে জাঠ পরিবারে জন্ম সত্যপালের। দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারে একাধিকবার দল বদলে ২০০৪ সালে যোগ দেন বিজেপিতে। মোদি জমানায় ২০১৭ সালে বিহারের রাজ্যপাল হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন তিনি। ২০১৮ সালের আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যপাল নিযুক্ত করা হয় তাঁকে। ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন। এরপর গোয়া ও মেঘালয়ের রাজ্যপাল করা হয় তাঁকে। তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যপাল থাকাকালীন ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা হয়। পরে এই হামলায় নিরাপত্তার গাফিলতি ও মোদি সরকারের সার্বিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন সত্যপাল। তিনি দাবি করেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে তাঁকে চুপ থাকতে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০২০-২১ সালে আন্দোলনরত কৃষকদের সমর্থন করায় বিজেপির সঙ্গে তাঁর তিক্ততা আরও তুঙ্গে ওঠে। কাশ্মীরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দুর্নীতি মামলায় সত্যপালের নামে চার্জশিট ফাইল করে সিবিআই।
এদিন তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সত্যপাল মালিকের পরিবার ও তাঁর সমর্থকদের প্রতি আমার সমবেদনা।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন রাজ্যপাল কিছু সত্যি কথা বলার জন্যই ভারতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। খুব কমজনেরই এমন সাহস রয়েছে। কৃষক আন্দোলন, পুলওয়ামা হামলা প্রসঙ্গে সাহসিকতার সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। তাঁর সাহসকে স্যালুট জানাই।’ দুঃখপ্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও।