


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তহবিল পাচারের জন্য জঙ্গিদের পিওএস (পয়েন্ট অফ সেলিং) মেশিন ব্যবহার চিন্তা বাড়াচ্ছে গোয়েন্দাদের। নিজেদের মধ্যে টাকা আদানপ্রদানের জন্য তারা এই মেশিনকে ব্যবহার করছে কোনও ওয়াইফাই জোনে গিয়ে। যাতে কোন লোকেশন থেকে টাকার আদানপ্রদান হচ্ছে, তার উৎস পাওয়া না যায়। নিউটাউন সংলগ্ন হাতিয়াড়া থেকে ধৃত লস্কর জঙ্গি উমর ফারুক কেন পিওএস মেশিন রেখেছিল, তাই নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে এই তথ্য পেয়েছে দিল্লি পুলিশ। কোনও জঙ্গি সংগঠনের কাছে পিওএস মেশিন উদ্ধার এই প্রথম। সেই সঙ্গে এই পদ্ধতিতে টাকা ট্রান্সফার কৌশলও নতুন। বাংলাদেশে থাকা লস্করের হ্যান্ডলার সাবির লোনের পরামর্শেই টাকা ট্রান্সফারের জন্য এই মেশিন কিনেছিল বলে ধৃত জঙ্গির দাবি।
জঙ্গি সংগঠনের টাকাপয়সা আদানপ্রদানের জন্য এতদিন হাওলা মাধ্যম ছিল ভরসা। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছিল বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র। সেখানকার কারও অ্যাকাউন্টে বা অনলাইনে টাকা আসত। সেই টাকা নগদে নিয়ে যেত জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। কিন্তু তহবিল আদানপ্রদানের এই পদ্ধতি ধরে ফেলেছে বিভিন্ন এজেন্সি। যে কারণে কৌশল বদল করেছে লস্করের মতো জঙ্গি সংগঠন। উমর ফারুকের কাছ থেকে পিওএস মেশিন উদ্ধারের পর গোয়েন্দারা প্রথমবার জেনেছেন, এই মেশিনই এখন জঙ্গিদের টাকা পাচারের মূল মাধ্যম।
তদন্তে উঠে আসছে, টাকা পাচারের জন্য ভুয়ো নথি জমা করে একাধিক অ্যাকাউন্ট খুলেছে জঙ্গি সংগঠনগুলি। এমনকি কাগুজে কোম্পানির অ্যাকাউন্টও রয়েছে। বাংলাদেশে থাকা জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি টাকা পাঠানোর জন্য সেখানকার কোনো এনজিও বা কোনো কোম্পানিকে ব্যবহার করছে। তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়ো নথি দিয়ে খোলা এপারের অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকা আসছে। আসলে এই অ্যাকাউন্টগুলি নিয়ন্ত্রণ করছে জঙ্গি মডিউলের মাথারা। তারাই বিভিন্ন ব্যক্তির নথি জোগাড় করে অ্যাকাউন্টগুলি খুলছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের ডেবিট কার্ড এবং ক্রেডিট কার্ড থাকছে মডিউলের মাথাদের কাছে। টাকা পাচারের জন্য কোনও এটিএম বা ওয়ালেট ব্যবহার হচ্ছে না। এরজন্য পিওএস মেশিন ব্যবহার করছে তারা। যা সিমের মাধ্যমে বা ওয়াইফাই জোনে গিয়ে অপারেট করা সম্ভব। মেশিনে থাকা সিমটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউেন্টের সঙ্গে সংযুক্ত থাকছে। মেশিনে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড সোয়াইপ করানোর পর জঙ্গি মডিউলের মাথার অ্যাকাউন্টে টাকা পাচার হচ্ছে। এরজন্য একাধিক সিম কার্ড ব্যবহার করছে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি। যাতে এক একটি ভুয়ো অ্যাকাউন্টে আলাদা নম্বর ব্যবহার করা যায়। একাধিক ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টাকা পাচার করছে জঙ্গিরা। পিওএস মেশিন ব্যবহার হচ্ছে ওয়াইফাইজোনে। যাতে কোথা থেকে এই মেশিন ব্যবহার হয়েছে, তার উৎস খুঁজে না পান তদন্তকারীরা। তবে জঙ্গিদের এই পিওএস মেশিন ব্যবহার চিন্তা বাড়িয়েছে তাঁদের। সেই কারণে এর ব্যবহার আটকাতে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের ভাবনা চিন্তা শুরু হয়েছে।