শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: সিঙ্গুর থেকে নন্দীগ্রাম। জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে রাজ্যে কম জল ঘোলা হয়নি। জনস্বার্থে জমি অধিগ্রহণের পর তা কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়েও তর্কবিতর্ক রয়েছে। এই ইস্যুতে এবার কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় জয় পেল রাজ্য সরকার। নির্দিষ্ট কোনও জনস্বার্থে অধিগৃহীত জমি অন্য জনস্বার্থে ব্যবহারে রাজ্যকে ছাড়পত্র দিল প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে, রাজ্য যদি মনে করে, তাহলে এক জনস্বার্থে অধিগৃহীত জমি অন্য জনস্বার্থে ব্যবহার করা যাবে। তাতে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
আইনজীবী মহলের ব্যাখ্যা, হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে এবার জনস্বার্থে অধিগৃহীত জমি কীভাবে ব্যবহার হবে, তা ঠিক করবে রাজ্য সরকার। এক্ষেত্রে কারও কোনও আপত্তির গুরুত্ব রইল না। ঘটনা হল, কলকাতার এন্টালি এলাকায় রাস্তা চওড়া করতে জমি অধিগ্রহণ ও তার ব্যবহারে আপত্তি জানিয়ে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল হাইকোর্টে। সেই মামলার সূত্রেই ওই রায় দিয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। ২০১৮ সাল নাগাদ এন্টালির মিডল রোড চওড়া করতে ওই জমি অধিগ্রহণ করেছিল রাজ্য সরকার। অধিগ্রহণের পর কেআইটি প্রকল্পের আওতাভুক্ত ওই রাস্তা চওড়া করার কাজ করে কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ)। রাস্তা চওড়া করার পর সংলগ্ন ৭৭ নম্বর প্লটে কিছুটা জমি বাড়তি ছিল। ওই জমিতে একটি বাসস্ট্যান্ড তৈরির কাজ শুরু করেছিল কেএমডিএ। এরপরই বিষয়টি নিয়ে জল গড়ায় হাইকোর্টে। স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত দাঁ সহ একাধিক ব্যক্তি মামলায় অভিযোগ করেন, এক জনস্বার্থে অধিগৃহীত জমি অন্য জনস্বার্থে ব্যবহার করা যায় না। এটা বেআইনি।
২০১৯ সাল থেকে সেই মামলার বিচারপর্ব বাকি ছিল। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল দাবি করেন, রাস্তা চওড়া করার কাজ বহুদিন আগে শেষ হয়েছে। ওই এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ মিটারের মধ্যে একটি বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। এবার ওই বাড়তি জায়গায় জনগনের সুবিধার্থে বাসস্ট্যান্ড ও শেড তৈরি করতে চায় রাজ্য। কিন্তু মামলাকারীর আইনজীবী দাবি করেন, একটি জনস্বার্থে অধিগৃহীত জমি অন্য জনস্বার্থে ব্যবহার করা যায় না। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, একটি জনস্বার্থে অধিগৃহীত জমি অন্য জনস্বার্থে ব্যবহারে কোনও বাধা নেই। এক্ষেত্রে একমাত্র রাজ্য সরকারই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। রাজ্যের সেই সিদ্ধান্তে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন হস্তক্ষেপ করতে পারে না।