


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: অষ্টমী ও নবমী তিথির বিশেষ সন্ধিক্ষণে হয় দেবীর সন্ধিপুজো। এই পুজোর অন্যতম অঙ্গ ১০৮টি পদ্ম। এই সন্ধিপুজোর পদ্মফুলই এখন নতুন করে বাঁচার রসদ জুগিয়েছে হাওড়া গ্রামীণ জেলার একাধিক কৃষক পরিবারকে। তবে জলাশয়ে নয়, নিজেদের চাষের জমিতে চিরাচরিত ধানচাষের পরিবর্তে পদ্মফুল চাষ করে এখন লাভের মুখ দেখছেন এইসব কৃষকরা।
পুজোর আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি দিন বাকি। দেবীর চরণে পদ্মফুল তুলে দিতে এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন পদ্মচাষিরা। বছরের অন্য সময় পদ্মফুলের সেভাবে চাহিদা না থাকলেও দুর্গাপুজোর সময় এই ফুলের চাহিদা অনেকটাই বেড়ে যায়। সে কথা ভেবেই বর্তমানে অনেকেই নিজেদের জমিতে পদ্মফুল চাষ করছেন। যেমন উলুবেড়িয়া ১ ব্লকের মহাদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা উত্তমকুমার সাউ নিজের ১০ বিঘা জমিতে পদ্মফুল চাষ করছেন। তিনি জানান, আগে জমিতে খরচ করে ধানচাষ করলেও সেভাবে পয়সা পেতাম না। এখন ধানের পরিবর্তে জমিতে পদ্মচাষ করে ভালো লাভ পাচ্ছি। এবারে জমিতে প্রচুর পদ্ম ফুটেছে। অনেক জায়গা থেকে বায়নাও এসেছে। এখনও পর্যন্ত জমি থেকে ৭০ হাজার পদ্মফুল তুলেছি। এখনও জমিতে ১০ হাজার পদ্ম আছে।
অন্যদিকে, সারা ভারত ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ নায়েক জানান, এখন জলাশয়ের পদ্মের অভাব অনেকটাই মেটাচ্ছে জমির পদ্ম। এই বছর পদ্মফুলের উৎপাদন ভালোই হয়েছে। তাই ফুলের ঘাটতি সেভাবে হবে না। এই বছর বন্যা না হওয়ায় ফুলের ভালো ফলন হয়েছে। এছাড়া পুজো দেরিতে পড়লে শিশির পড়ে পদ্মফুল নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এবারে পুজো এগিয়ে আসায় সেটাও হয়নি। সব মিলিয়েই ফুলের ভালো ফলন হয়েছে।