Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঠাকুরনগরে লক্ষাধিক মতুয়া ভক্তের সমাগম, বারুণী মেলায় আজ পুণ্যস্নান

দু’দিন আগে থেকে শুরু হয়েছে কামনা সাগরে পুণ্যস্নান। আজ, বৃহস্পতিবার সারাদিন পুণ্যস্নানের যোগ থাকায় লক্ষ লক্ষ মতুয়া ভক্ত মনস্কামনা পূরণ করতে কামনা সাগরে ডুব দেবেন । বুধবার রাত ১০টা ৪৪ মিনিট থেকে শুরু হচ্ছে মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথি।

ঠাকুরনগরে লক্ষাধিক মতুয়া ভক্তের সমাগম, বারুণী মেলায় আজ পুণ্যস্নান
  • ২৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: দু’দিন আগে থেকে শুরু হয়েছে কামনা সাগরে পুণ্যস্নান। আজ, বৃহস্পতিবার সারাদিন পুণ্যস্নানের যোগ থাকায় লক্ষ লক্ষ মতুয়া ভক্ত মনস্কামনা পূরণ করতে কামনা সাগরে ডুব দেবেন । বুধবার রাত ১০টা ৪৪ মিনিট থেকে শুরু হচ্ছে মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথি। চলবে আজ রাত ৮:৩৩ মিনিট পর্যন্ত। প্রতি বছর এই তিথিতে ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে শুরু হয় বারুণী মেলা। দূরদূরান্ত থেকে মতুয়া ভক্তরা আসেন। ভিন রাজ্য, এমনকী প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকেও বহু মতুয়া ভক্ত ভিড় জমান মেলায়। মেলায় আসা লক্ষ লক্ষ ভক্তের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। শতাধিক সিসি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে মেলায় নজরদারি চালাচ্ছে তারা। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় এক হাজার পুলিসকর্মী। রয়েছে সাদা পোশাকের পুলিসও। মেলায় টহল দিচ্ছেন পুলিসের উইনার্স টিমের সদস্যরা। পুলিসের উচ্চপদস্থ কর্তারাও টহল দিচ্ছেন মেলায়।

Advertisement

মতুয়া ধর্মগুরু হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১৪তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষ্যে এবারও যথারীতি ঠাকুরনগরে শুরু হয়েছে বারুণী মেলা। এবছর যৌথভাবে মেলা আয়োজন করেছে মমতা ঠাকুর ও শান্তনু ঠাকুর গোষ্ঠী। দুই গোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়েই তৈরি হয়েছে মেলা কমিটি। গত বছর মেলা ঘিরে শান্তনু ঠাকুর ও মমতাবালা ঠাকুরের বিবাদে ঠাকুরবাড়িতে উত্তেজনা ছড়ায়। ওই ঘটনায় অনেক মতুয়া ভক্ত অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তাই এবছর একসঙ্গে মেলা আয়োজন হওয়ায় খুশি ভক্তরা। মতুয়া সঙ্ঘের মহা সঙ্ঘাধিপতি সুব্রত ঠাকুর বলেন, ‘এবার যৌথভাবে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এতে ভক্তরা আপ্লুত।
তিথি মেনে বৃহস্পতিবার স্নানের দিন হলেও সোমবার থেকেই মেলায় আসতে শুরু করেছেন ভক্তরা। বড়মা বীণাপাণি দেবীর ঘরের সামনে ডঙ্কা কাঁসর বাজিয়ে উৎসবে মেতে উঠেছেন তাঁরা।’ বুধবার বিকেলে 
ঠাকুরবাড়িতে আসেন বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার। তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ মমতা ঠাকুরের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন তিনি। এদিন ঠাকুরবাড়িতে আসেন রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু, প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। দুই গোষ্ঠীর একসঙ্গে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্তকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন। 
এদিন মালদহ থেকে ঠাকুরনগরে এসেছে ৩৩ জনের একটি দল। তাদের দলপতি পপি গাইন বলেন, ‘কামনা সাগরে ডুব দিয়ে মানত করলে মনস্কামনা পূরণ হয়। তাই তো ঠাকুরের কাছে বারবার ছুটে আসি আমরা।› শ্যামল মাহার বলেন, ‘আমরা মতুয়া ধর্মের লোক। এই মেলা আমাদের প্রাণের মেলা।’ সাংসদ মমতা ঠাকুর বলেন, ‘প্রতি বছর মেলায় বাংলাদেশ থেকে ভক্তরা আসেন। 
বর্তমান পরিস্থিতিতে জানি না তাঁরা আসতে পারবেন কি না।’ মেলা উপলক্ষ্যে রেল বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ