Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৩০০ কোটির প্রতারণা মামলায় আদালত থেকে উধাও চার্জশিটের ১৬ পাতা, রহস্য

৩০০ কোটির প্রতারণা মামলায় আদালত থেকে উধাও চার্জশিটের ১৬ পাতা, রহস্য
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানায় দায়ের হওয়া একটি অনলাইন গেমিং প্রতারণা মামলার চার্জশিট থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি পাতা। বেমালুম তা চেপেও যাওয়া হয়েছিল। দুই অভিযুক্তের জামিনের আবেদনের শুনানি চলাকালীন বনগাঁ আদালতের বিচারক প্রদীপকুমার অধিকারীর নজরে আসে বিষয়টি। তিনি এই ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শুনানিও ব্যাহত হয়। অবিলম্বে হারিয়ে যাওয়া নথি উদ্ধারের জন্য তিনি কড়া নির্দেশ দেন আদালতের জেনারেল রেকর্ড বিভাগকে। বনগাঁ জেলা ও দায়রা বিচারক এনিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে মহকুমা আদালতকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। বিচারকের কড়া পদক্ষেপের এক সপ্তাহের ম঩ধ্যে আশ্চর্যভাবে ওই ১৬টি পাতার হদিশ মেলে বনগাঁ কোর্টে পুলিসের জেনারেল রেকর্ড বিভাগেই। সোমবার বিষয়টি আদালতকে জানানো হয়। মামলার যাবতীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখে বিচারক দুই অভিযুক্তের জামিনের আবেদন বাতিল করে দিয়েছেন। সরকারি কৌঁসুলিদের একাংশের বক্তব্য, যে কোনও মামলায় চার্জশিট হল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নথি। আদালতে পেশ করা ওই নথির ভিত্তিতেই মূল মামলার বিচার হয়। সেখানে এই ধরনের গাফিলতি দুর্ভাগ্যজনক।
Advertisement
মামলায় কী ছিল অভিযোগ? আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে গোপন সূত্রে পুলিস খবর পায়, বাগদা থানা এলাকায় অনলাইন গেমিংয়ের নামে প্রতারণার কারবার চলছে। হানা দিয়ে ১০ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তারা সকলেই ওই থানা এলাকার বাসিন্দা। তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার হয় একাধিক মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, হার্ডডিস্ক, এটিএম কার্ড, চেকবই, একাধিক ব্যাঙ্কের পাসবই, বেশ কিছু সিলমোহর ইত্যাদি। পুলিসের অভিযোগ ছিল, ধৃতরা অনলাইন গেমিং প্রতারণার মাধ্যমে বহু মানুষের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা প্রতারণা করেছে। তদন্তে তারা আরও জানতে পারে, ওই বিপুল টাকার একটা বৃহৎ অংশ পাচার করা হয়েছিল হংকংয়ে। বাগদা থানার পুলিস তদন্ত শেষ করে ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশ করে। এর আগে নিম্ন আদালত ধৃতদের জামিনের আবেদন একাধিকবার খারিজ করে দেয়। সম্প্রতি বনগাঁ জেলা ও দায়রা আদালতে দুই অভিযুক্ত জামিনের আর্জি জানায়। তার পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি চলাকালে বিচারক মামলার নথিতে চার্জশিটের কপি দেখতে গিয়ে খেয়াল করেন, ১৬টি পাতা নেই। তিনি বিষয়টি নিয়ে সরকারি কৌঁসুলির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপরই তিনি নথি খুঁজে বার করার নির্দেশ দেন। এই ঘটনায় আদালতের অনেক সময় নষ্ট হয়।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ