সংবাদদাতা, বজবজ: প্রায় ২০ কোটি টাকা আর্থিক প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে ঠাকুরপুকুর-মহেশতলা ব্লকের রসপুঞ্জ এবং ফলতা এলাকায়। ইতিমধ্যেই প্রতারিতরা প্রাপ্য টাকা ফেরত না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ফলতায় এক অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর করেছে। নির্বিচারে চলেছে লুটপাট। জানা গিয়েছে, প্রতারণা চক্রের মাস্টারমাইন্ডের বাড়ি রসপুঞ্জ এলাকায়। সেও বাড়ি ছেড়ে উধাও। ভুক্তভোগীরা আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিষ্ণুপুর থানা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করলেও সে জামিন পেয়ে গিয়েছে। তাতেই আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন রসপুঞ্জ এলাকার মানুষ। এত কোটি টাকা প্রতারণার পর কীভাবে অভিযুক্ত জামিন পেল, প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এই ঘটনায় পুলিসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষ্ণুপুরের বিধায়ক ও রাজের প্রতিমন্ত্রী দিলীপ মণ্ডলের সঙ্গে দেখা করে তাঁর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন রসপুঞ্জের কয়েকশো মহিলা। শুক্রবার বিকেলে ভুক্তভোগীদের থানায় ডেকে আইসি কথা বললেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি তাঁরা।
Advertisement
রসপুঞ্জের বাসিন্দা তৃষা মণ্ডল বলেন, এই প্রতারণা চক্রের মূল মাথা রুমা নস্কর এবং তার পরিবারের সদস্যরা। এছাড়াও ফলতা ও বজবজের বেশ কয়েকজন এই চক্রে জড়িত। জানা গিয়েছে, এই সব গ্রামীণ এলাকায় ঋণ প্রদানকারী সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে রুমা মণ্ডলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সেই সুবাদে রুমা ও তার দলের সদস্যরা রসপুঞ্জ, ফলতা, বিষ্ণুপুরের বিভিন্ন জায়গায় সহজ শর্তে ঋণের টোপ দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ। রুমারা লোকজনকে বলত, ঋণের ৫০ শতাংশ টাকা তাদের দিতে হবে। তারাই মাসিক ইএমআই জমা করে দেবে। বাকি ৫০ শতাংশ নিজের মতো করে খরচ করতে পারবেন ঋণগ্রহীতা। কিন্তু কয়েকমাস আগে আচমকা ঋণদানকারী সংস্থা তাগাদা দিতে শুরু করলে রুমা ঋণগ্রহীতাদের বলে, তাঁদের কাছে ঋণের যে ৫০ শতাংশ রয়েছে, তা তাকে দিলে ১৫ দিনে ডাবল করিয়ে দেবে। তখন ঋণ পরিশোধের সমস্যা হবে না। এই ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন নিরীহ গ্রামবাসীরা। সব মিলিয়ে লোপাট হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। এবার ইএমআই পরিশোধ না হওয়ায় ঋণ গ্রহীতাদের দরজায় এসে তাগাদা দিচ্ছে ঋণদানকারী সংস্থা।



