নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে লখনউয়ের কাছে ৪ রানে হার এখন অতীত। মাথা উঁচু রেখে পরের ম্যাচে মাঠে নামার জন্য নাইটদের বার্তা দিলেন শাহরুখ খান। গতবার অধিকাংশ ম্যাচে সশরীরে ড্রেসিং-রুমে থেকে ক্রিকেটারদের মনোবল বাড়াতেন। তার সুফলও মিলত হাতেনাতে। আইপিএলে তৃতীয়বার খেতাব ঘরে তুলেছিল কেকেআর। এবার কিং খান শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত। আগের মতো প্রতি ম্যাচে মাঠে উপস্থিত থেকে দলকে উজ্জীবিত করতে পারছেন না। তবে নিয়মিত মেসেজ পাঠাচ্ছেন সিইও বেঙ্কি মাইসেরোরের মাধ্যমে। বাদশার বার্তায় নাইটরা কতটা উজ্জীবিত হয় সেটাই দেখার।
১১ এপ্রিল চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে নামবেন রাহানেরা। চিপক আবার বরুণ চক্রবর্তীর হোমগ্রাউন্ড। ঘরের মাঠে মিস্ট্রি স্পিনার জ্বলে উঠবেন, আশায় সমর্থকরা। তবে পাঁচ ম্যাচে নাইট রাইডার্স হেরেছে তিনটিতে। তার মধ্যে ঘরের মাঠে দু’টি। ৪ পয়েন্ট নিয়ে কেকেআর আপাতত ষষ্ঠ স্থানে। দ্রুত জয়ে ফিরতে না পারলে বিপদ। নাইটদের পরের দু’টি অ্যাওয়ে ম্যাচ। চেন্নাইয়ের পর রাসেলদের গন্তব্য চণ্ডীগড়, যে ম্যাচের গুরুত্ব অন্য এক কারণেও তাৎপর্যপূর্ণ। আসলে গতবার শ্রেয়সের নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল নাইট রাইডার্স। এবার সেই শ্রেয়সের ক্যাপ্টেন্সিতে দুরন্ত ফর্মে পাঞ্জাব। প্রাক্তন অধিনায়কের সঙ্গে নাইট শিবিরের মনস্তাত্বিক লড়াই ম্যাচের বাড়তি আকর্ষণ।
এদিকে, লখনউয়ের বিরুদ্ধে হারের পর ইডেনের কিউরেটরের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন রাহানে। তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। প্রাক্তন ক্রিকেটারদের অনেকের মতে, ইডেনের পিচ নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে নাইটদের উচিত নিজেদের খেলায় আরও মনোযোগ দেওয়া। গতবারের চ্যাম্পিয়নদের ব্যর্থতার জন্য অনেকেই কাঠগড়ায় তুলছেন কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতকে। তাঁদের বক্তব্য, স্পেনসার জনসনকে নিয়মিত খেলানো হচ্ছে কেন? মিচেল স্টার্কের পরিবর্ত হিসেবে বাঁ হাতি স্পেনসারকে বেছে নিয়েছিল কেকেআর। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে দুই বোলারের মধ্যে বিস্তর ফারাক। সেটাই পাওয়ার প্লে’তে নাইটদের চাপে ফেলে দিচ্ছে। মঈন আলি যে দু’টি ম্যাচে খেলেছিলেন, দু’টিতেই জিতেছিল নাইট রাইডার্স। তার পরেও লখনউয়ের বিরুদ্ধে তাঁর ঠিকানা হয় ডাগ-আউট। আসলে শুধু স্পেনসার নন, বিদেশিরাই এবার ডোবাচ্ছে নাইট রাইডার্সকে। একটা ম্যাচ জেতানো ৯৭ ছাড়া কুইন্টন ডি’কক ব্যর্থ। তবুও তাঁর বিকল্প খোঁজার চেষ্টা হচ্ছে না। একই অবস্থা সুনীল নারিনেরও। উইকেট থেকে সাহায্য না পেলে তিনি বল ঘোরাতে পারেন না। গত ম্যাচে প্রচুর রান দেওয়ায় তাঁকে তিন ওভার বল করিয়েই বসিয়ে রাখা হয়েছিল।
আর আন্দ্রে রাসেলকে নিয়ে যত কম বলা যায়, ততই ভালো। পুরো চার ওভার বল দেওয়া যাচ্ছে না। চোট লাগার আশঙ্কা। আবার ব্যাট হাতে ঝড় তোলার ক্ষমতাও হারিয়েছেন। তা না হলে রাহানে, বেঙ্কটেশদের গড়ে দেওয়া ভিতে লখনউকে হারিয়ে তিনিই তো হয়ে উঠতে পারতেন ম্যাচের নায়ক। রাসেলের বিকল্প হিসেবে ভাবা যেতে পারেন রভম্যান পাওয়েলকে। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের জন্য তাঁর যথেষ্ট সুনাম রয়েছে।