Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কিডনি পাচার কাণ্ড: কলকাতার এক ‘প্রভাবশালী’ আইনজীবী পুলিসের স্ক্যানারে

কিডনি পাচারকাণ্ডে নেফ্রোলজিস্টের পর এবার পুলিসের ‘স্ক্যানারে’চলে এলেন এক ‘প্রভাবশালী’আইনজীবী।

কিডনি পাচার কাণ্ড: কলকাতার এক ‘প্রভাবশালী’ আইনজীবী পুলিসের স্ক্যানারে
  • ২৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কিডনি পাচারকাণ্ডে নেফ্রোলজিস্টের পর এবার পুলিসের ‘স্ক্যানারে’চলে এলেন এক ‘প্রভাবশালী’আইনজীবী। গোটা চক্রের পিছনে তাঁর ‘প্রচ্ছন্ন মদত’ রয়েছে বলেই ধৃতদের জেরা করে  জেনেছে পুলিস। শুধু তাই নয়, নিয়ম অনুযায়ী কেউ কিডনি দিতে চাইলে তাঁকে আদালত থেকে অনুমতি নিতে হয়। এর জন্য দাতাদের আদালতে হলফনামা দিতে হয়। এই প্রক্রিয়া কোথাও বাধাপ্রাপ্ত হলে, সেই  আইনজীবী মহোদয় তা মসৃণ করতেন তাঁর ‘জাদুকাঠি’র  ছোঁয়ায়, এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারীরা। এর পিছনে ওই নেফ্রোলজিস্টের একটি বড় সিন্ডিকেটও কাজ করছে বলেও ধারণা তদন্তকারীদের। আর কয়েকদিনের মধ্যেই ওই নেফ্রোলজিস্ট ও আইনজীবীকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চলেছে পুলিস। এদিকে, শুক্রবার রাজ্য স্বাস্থ্যভবনে গিয়ে বেশ কয়েকজন আধিকারিক ও কর্মীকে কিডনি পাচার নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে অশোকনগর থানার পুলিস। যে গতিতে পুলিস তদন্ত করছে, তাতে আর ক’দিনের মধ্যেই গোটা সিন্ডিকেটের পর্দাফাঁস হয়ে যাবে বলেই মনে করছে আম জনতা।

Advertisement

কয়েকদিন আগে অশোকনগর থানার পুলিসের হাতে কিডনি পাচার চক্রে গ্রেপ্তার হয় বিকাশ ঘোষ ওরফে শীতল। তাকে জেরা করে এই ঘটনায় দুই মহিলা সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতরা প্রত্যেকেই রয়েছে অশোকনগর থানার পুলিসের হেফাজতে। তাদের দফায় দফায় জেরা করতে শুরু করেছে পুলিস। তার জেরেই এই ঘটনা যেন ক্রমশ অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করেছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে, তাতে ‘কেঁচো খুঁড়তে কেউটে’ বেরিয়ে আসতে পারে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কাছে সব সুপারিশ করার অভিযোগে দক্ষিণ কলকাতার নামজাদা নার্সিংহোমের নেফ্রোলজিস্ট পুলিসের স্ক্যানারে রয়েছেন। এবার তাঁকে জেরা করা হতে পারে। তবে, এখানেই শেষ নয়, সরকারি নিয়ম মেনে কিডনিদাতাদের আদালত থেকে হলফনামা করাতে হয়। পুলিসের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, এই চক্রটি আদালতের সম্মতির নেওয়ার জন্য সর্বোপরি হলফনামা করার জন্য কলকাতার এক আদালতের শরণাপন্ন হতো। ওই আইনজীবী নিজের মতো করে সমস্ত কাগজপত্র তৈরি করে জমা করে দিতেন। ‘নন রেকমন্ডেশন’ থাকা কেসগুলি এই আইনজীবীর সৌজন্যে‘অদৃশ্য হাতে’র ছোঁয়ায় হয়ে যেত ‘রেকমন্ডেড।’কোনও অনুমতি পত্র যদি জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে ‘বাতিল’ হয়ে যেত, সেক্ষেত্রে আইনজীবী এবং চিকিৎসক যৌথ উদ্যোগে সমস্ত ‘সম্মতি’ করিয়ে নিতেন।এরপর সবকিছুই ‘নির্দ্বিধায়’ হয়ে যেত বলেই জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। অশোকনগরের ক্ষেত্রে একাধিক ‘কেস’ এভাবেই হয়েছে। ফলে চিকিৎসকের পাশাপাশি কলকাতার ওই আইনজীবীও সন্দেহের তালিকায় চলে এসেছেন। বারাসত পুলিস জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়া জানিয়েছেন, কিডনি কাণ্ডে ধৃতদের বয়ান যাচাই করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ