Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিক্ষিত নতুন প্রজন্ম গড়তে চাওয়ার ‘শাস্তি’ পেলেন কেশিয়াড়ির গোপাল

ছোট থেকে অভাবকে সঙ্গী করেই বড় হওয়া। পরে গুয়াহাটি আইআইটি থেকে করেছিলেন পিএইচডি। সুযোগ ছিল দেশে- বিদেশের নামী দামি সংস্থায় চাকরি করার।

শিক্ষিত নতুন প্রজন্ম গড়তে চাওয়ার ‘শাস্তি’ পেলেন কেশিয়াড়ির গোপাল
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ছোট থেকে অভাবকে সঙ্গী করেই বড় হওয়া। পরে গুয়াহাটি আইআইটি থেকে করেছিলেন পিএইচডি। সুযোগ ছিল দেশে- বিদেশের নামী দামি সংস্থায় চাকরি করার। কিন্তু মোটা অঙ্কের বেতনকে সরিয়ে রেখে মানুষ তৈরির কারিগর হওয়ার স্বপ্ন ছিল মনে প্রাণে। সেই ইচ্ছে থেকেই স্কুলে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ার স্বপ্ন দেখার জন্য তাঁকে ‘শাস্তি’ পেত হল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিদ্ধ ২৬ হাজার শিক্ষকের মধ্যে অন্যতম গোপাল পণ্ডিত। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়ি ব্লকের নছিপুর আদিবাসী হাইস্কুলের রসায়নের শিক্ষক তিনি। দেশের শীর্ষ আদালতের রায়ে কার্যত মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন গোপালবাবু। শুধু তাই নয়, সমস্যায় পড়েছে জনপ্রিয় এই স্কুলও। জানা গিয়েছে, এই স্কুলের মোট আটজন শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিল হয়েছে। এছাড়া দু’জন অশিক্ষক কর্মীও রয়েছেন। এরফলে স্কুল কীভাবে চলবে, তা ভাবতেই পারছে না স্কুল কর্তৃপক্ষ। এমনকী স্কুলের পড়ুয়াদের পরীক্ষার খাতা কে দেখবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

Advertisement

বর্তমানে গোপালবাবু মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। সামনের মাস থেকে কীভাবে সংসার চালাবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না। এদিন তিনি বলেন, আপার প্রাইমারিতে ভালো নম্বর পাওয়া সত্ত্বেও ইন্টারভিউতে অংশগ্রহণ করিনি। চেয়েছিলাম যাতে একটি বেকার ছেলে চাকরি পায়। এরপর কী হবে বুঝে উঠতে পারছি না। আমরা যোগ্যতার সঙ্গে চাকরি পেয়েছিলাম। এত দূর পর্যন্ত পড়াশোনার পর এমন দিন দেখতে হবে, তা ভাবতেও পারিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপালবাবুর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর থানার আম্বি গ্রামে। তাঁর বাবা মদনকুমার পণ্ডিত দিনমজুরের কাজ করতেন। বাড়িতে মা-বাবা, ঠাকুমা ছাড়াও স্ত্রী বৈশাখী ও কন্যা সন্তান রয়েছে। পাশাপাশি বাড়ি তৈরির জন্য ঋণও নিয়েছেন গোপালবাবু। এরফলে তিনি ঋণ পরিশোধ করবেন নাকি সংসার চালাবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না। ছোট থেকে মেধাবী গোপালবাবু চাঁদপুর হাড়োচরণ বিদ্যামন্দির স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। স্কুলের মধ্যে তিনি প্রথম হয়েছিলেন। পরে উচ্চ মাধ্যমিক নৈপুর শান্তিসুধা ইনস্টিটিউশন থেকে পাস করেন। এরপর গড়বেতা কলেজ থেকে স্নাতক ও অসমের তেজপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি কেমিক্যাল বায়োলজি বিষয়ের উপর গুয়াহাটি আইআইটি থেকে গবেষণার কাজ করেন।  গোপালবাবুর স্ত্রী বৈশাখী বলেন, খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। জানি না কী হবে। সরকার আমাদের কথা ভাবুন। কেশিয়াড়ি ব্লকের নছিপুর আদিবাসী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বপন পইড়্যা বলেন, স্কুলের আটজন শিক্ষক চাকরি হারিয়েছেন। কীভাবে স্কুল চালাব, জানি না।  গোপাল পণ্ডিত। -ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ