বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: কাশ্মীরের আখরোট। দেশজোড়া খ্যাতি। তবে বিদেশি বাজারে সেই অর্থে জনপ্রিয় হতে পারছে না কাশ্মীরি আখরোট। কেন? বিস্তারিত ব্যাখ্যা মিলেছে নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক রিপোর্টে। ‘রোডম্যাপ ফর হর্টিকালচার ডেভেলপমেন্ট ইন দ্য ইউটি’ শীর্ষক ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী যে আখরোট উৎপাদন হয়, তাতে দ্বিতীয় সারিতে রয়েছে কাশ্মীর। অর্থাৎ ফলন যথেষ্ট ভালো। তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্ব আখরোট উৎপাদনের প্রায় ৭.৭০ শতাংশ আসে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে। হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন প্রায় ৩.৫৫ টন। যা মেক্সিকো (১.৩৯ টন), বুরকিনা ফাসো (১.৪৮ টন) এবং তুরস্ক (২.০৭ টন)-এর মতো প্রতিষ্ঠিত অঞ্চলের চেয়েও বেশি। তবু এই উৎপাদন ক্ষমতা আন্তর্জাতিক বাজারে ছাপ ফেলতে ব্যর্থ হচ্ছে। কারণ হিসাবে রিপোর্টে চিহ্নিত করা হয়েছে—গুণগত মানের অভাব। এছাড়া প্রক্রিয়াকরণে ঘাটতি, ব্র্যান্ডিংয়ের দুর্বলতা সহ একাধিক কারণ রয়েছে।
রিপোর্টে সমাধানের রাস্তাও দেখানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, চাষ ও প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন হলেই বদলে যেতে পারে পুরো ছবিটা। ফসল কাটার পর তার সঠিক হ্যান্ডলিং, গ্রেডিংয়ে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আখরোট ব্যবসায়ীরাও এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। কাশ্মীর ওয়ালনাট গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাজি বাহাদুর খান বলেন, ‘চিলি ও ক্যালিফোর্নিয়ার সস্তার আখরোট বাজারে ঢুকে পড়ায় স্থানীয় আখরোটের চাহিদা কমেছে।’ একই মত আরেক ব্যবসায়ী গুলাম আহমদ ভাটের। তাঁর দাবি, ‘ক্যালিফোর্নিয়ার আখরোটের মতো শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং, সরবরাহ ব্যবস্থা কাশ্মীরি আখরোটের নেই। ফলে প্যাকেজিং ও গ্রেডিং উন্নত নয়।’
বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীরে প্রায় ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে আখরোট চাষ হয়। বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ২.৬৬ লক্ষ মেট্রিক টন। ভারতের মোট আখরোট উৎপাদনের প্রায় ৯৮ শতাংশই আসে এই অঞ্চল থেকে। বিশেষ করে কুপওয়ারা, বারামুলা, অনন্তনাগ, সোপিয়ান ও পুলওয়ামা জেলায় এই চাষ বেশি হয়, যেখানে হাজার হাজার গ্রামীণ পরিবার জীবিকার জন্য আখরোট চাষের উপর নির্ভরশীল। তবে ব্রান্ডিং না হলে বিশ্ববাজারে এর জনপ্রিয়তা বাড়বে না। ফলে রপ্তানিও আশানুরূপ হবে না। কেন্দ্রের রিপোর্টে সেই উদ্বেগের কথাই স্পষ্ট হয়েছে।