


ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: জিতেও ছেড়ে দিয়েছিলেন ওমর আবদুল্লা। আজ কাশ্মীরের সেই বদ্গাঁও কেন্দ্রে উপনির্বাচন। এই নির্বাচনকে ওমর আবদুল্লা সরকারের বড় পরীক্ষা হিসেবই দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের কথায়, আ্যসিড টেস্ট!
কাশ্মীরের এই কেন্দ্রে মোট ১৭ জন প্রার্থী লড়ছেন। শাসকদল ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) প্রার্থী আগা মাহমুদ। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পিডিপির আগা মুনতাজির। এছাড়া নির্দল প্রার্থী মুনতাজির এবং এআইপির নাজির আহমেদ খান জোর টক্কর দিতে পারেন। তবে যেভাবে এই কেন্দ্রের জন্য নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে প্রচার সেরেছে এনসি, তা নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন অনেকে। স্রেফ মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা নন, আগা মাহমুদের হয়ে প্রচার সেরেছেন উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর সিং সহ দলের প্রায় সব বিধায়ক। যদিও ভোটের ফল অনেকটাই নির্ভর করছে শিয়া সম্প্রদায়ের বিবেচনার উপর। কাশ্মীরের এই কেন্দ্রে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ভোটার শিয়া সম্প্রদায়ের। এঁদের ভোটই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনের বিধি মেনে রবিবার শেষ হয়েছে প্রচার। তার আগে একটানা জনসভা করে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। নিজের দলের প্রার্থীর হয়ে প্রচারের সঙ্গে বিপক্ষেদের নানা ইস্যুতে কটাক্ষ করেছেন তিনি। বিশেষ করে পিডিপির বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে জম্মু–কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা নষ্ট করতে চাইছে এই দল। তবে এনসি সরকারও বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। চাকরি, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, এলপিজি ভর্তুকির প্রতিশ্রুতি দিয়েও পূরণ না করার অভিযোগ উঠেছে ওমরের দলের বিরুদ্ধে। ভোটের ফলে এর গুরুতর প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা আগা রুহুল্লাহ মেহেদি প্রচার থেকে দূরে রয়েছেন। তাতেও কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে এনসি। ভোটের ফলেই বোঝা যাবে এনসির প্রচেষ্টা আদৌ সফল হয় কি না।