


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: মজে যাওয়া পুকুরকে বাস্তু দেখিয়ে ভরাটের অপচেষ্টা শুরু করেছিল জমি হাঙররা। ঘটনাটি আড়িয়াদহের। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ও কাউন্সিলারের যৌথ লড়াই সেই চেষ্টা রুখে দিয়েছে। জেলাশাসকের হস্তক্ষেপে ওই পুকুর নতুন করে খনন ও তাতে সীমানা পাঁচিল দিয়ে ঘেরার উদ্যোগ নিয়েছে কামারহাটি পুরসভা। বরাদ্দ হয়েছে চার লক্ষের বেশি টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কামারহাটি পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড গঙ্গা লাগোয়া। পুরনো ওই মহল্লার ১২ নং ঈশ্বরচন্দ্র ব্যানার্জি লেনে ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুর রয়েছে। পুকুরটির মাপ ৯ কাঠার বেশি। তবে আগের মতো সেই পুকুরে টলটলে জল ছিল না। মজে যাওয়া পুকুর কচুরিপানা ও কচু গাছে পরিপূর্ণ। স্থানীয় অনেকেই পুকুর পাড়ে আবর্জনা ফেলতেন। তাঁরা দেখেন, ২০২৩ সালের ১২ মার্চ রাতের অন্ধকারে পুকুরের সীমানা পাঁচিল ভাঙা হয়েছে। কয়েক গাড়ি রাবিশ ফেলা হয়েছে। ফের দুপুরে পুকুর ভরাটের চেষ্টা হলে এলাকাবাসীর পাশাপাশি স্থানীয় কাউন্সিলার মায়া দাস রুখে দাঁড়ান। তখন, জমির কারবারিরা কাগজ দেখিয়ে দাবি করেন, এটা বাস্তু জমি। এখানে কোনও পুকুর ছিল না। তাঁদের দাবিতে এলাকাবাসী আকাশ থেকে পড়েন। মায়াদেবী থানায় অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি জেলাশাসককেও চিঠি দিয়ে পদক্ষেপের দাবি জানান। প্রশাসনিক স্তরে হইচই শুরু হওয়ায় পিছু হটে জমির কারবারিরা। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি রাতে ফের পুকুর ভরাটের চেষ্টা হলে এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। মায়াদেবী নতুন করে জেলাশাসককে চিঠি দেন। তাতে জলাশয় ভরাট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের কথাও বলেন। আগেকার অভিযোগপত্রও তাতে জুড়ে দেন। এরপর জেলাশাসক পুরসভার এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে চিঠি দিয়ে পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। পুরসভা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ওই জায়গা যে বাস্তু নয় পুকুর সেই রিপোর্ট দেয়। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের ছাড়পত্র পেয়ে পুরসভা নতুন করে পুকুর খননে উদ্যোগী হয়েছে। চলতি মাসে ওই পুকুর নতুন করে খননের জন্য পুরসভার তরফে ৪ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দ করেছে। কাউন্সিলার মায়া দাস বলেন, আমাদের সম্মিলিত আন্দোলন জয়ী হয়েছে। ওখানে এখনও পাড়া কালচার রয়েছে। যে কোনও অন্যায়ের কৈফিয়ত আমাদের দিতে হয়।