নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বকেয়া কর আদায়ে সাফল্য। পরপর তিন বছর পুরসভার সম্পত্তি কর আদায়ে আয় বাড়িয়ে চমক কামারহাটি পুরসভার। শহরতলির একাধিক পুরসভার কর্মকর্তারা আকছারই শোনান আর্থিক সঙ্কটের কাহিনি। কিন্তু বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, পুরসভার আয় বাড়াতে তেমন কোনও উদ্যোগই চোখে পড়ে না। তবে ব্যতিক্রম কামারহাটি। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের তুলনায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবর্ষে এই খাতে পুরসভার আয় বেড়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং থেকে গত বছরের তুলনায় আট লক্ষ টাকা আয় বেড়ে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা হয়েছে। পুরসভার কর্তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের উপর চাপ না বাড়িয়ে শুধুমাত্র সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া কর আদায়ে জোর দিয়েই সাফল্য এসেছে।
জানা গিয়েছে, কামারহাটি পুরসভার মোট হোল্ডিং লক্ষাধিক। তবে পুরসভার নথিবদ্ধ হোল্ডিংয়ের সংখ্যা ৭০ হাজারের মতো। ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে সাত কোটি ১৮ লক্ষ ৪৭ হাজার ৩৮৫ টাকা সম্পত্তি কর আদায় হয়েছিল। পরের অর্থবর্ষে তা প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা বেড়ে সাত কোটি ৪৮ লক্ষ ৫১ হাজার ৪৫০ টাকা হয়। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে ওই আয় একলাফে প্রায় আড়াই কোটি বাড়ে। আয় হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা। পুরসভার কর্তাদের দাবি, এই খাতে এক বছরে প্রায় ৩১.৮৩ শতাংশ আয় বেড়েছে। বৃদ্ধির কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, পুরসভা এলাকায় একাধিক কারখানা ও সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের মধ্যে কামারহাটি জুটমিল থেকে ২৫ লক্ষ ৫০ হাজার, ইএসআই হাসপাতাল থেকে ১২ লক্ষ ৫০ হাজার, সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকেও বিপুল সম্পত্তি কর আদায় হয়েছে। এছাড়া বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির দীর্ঘদিনের বকেয়া ট্যাক্সও আদায় হয়েছে।
শুধু তাই নয়, এ শহরতলির প্রতিটি রাস্তা অলিগলিতে বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি। ব্যতিক্রম নয় কামারহাটি। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং থেকে আয় হয়েছিল ৩১লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে সেই আয় বেড়ে হয় ৩৯ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা। এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স ফি থেকেও ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে দু’কোটি ২৬ লক্ষ টাকা আয় হয়েছে। পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ও ট্যাক্স বিভাগের দায়িত্বে থাকা তুষার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সাধারণ নাগরিকদের উপর অহেতুক বোঝা না বাড়িয়ে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কারখানার বকেয়া আদায়ে জোর দেওয়া হয়েছিল। নিরবিচ্ছিন্নভাবে পুরসভার আধিকারিকরা যোগাযোগ করে গিয়েছেন। পাশাপাশি কর্মচারীদের সক্রিয়তায় এই কর আদায় সম্ভব হয়েছে। এখনও বিপুল আয় বাড়ানোর সুযোগ আছে। আমরা হোর্ডিং থেকে এক কোটি টাকা আয়ের পরিকল্পনা নিয়ে এগচ্ছি।’