


সংবাদদাতা, কল্যাণী: বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় টানা সাতবছর থাকার অনন্য এক কৃতিত্ব অর্জন করেছেন কল্যাণীর এক বিজ্ঞানী। গবেষণার কাজে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁর এই অনন্য স্বীকৃতি। তিনি কল্যাণীর সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যাপক প্রভাসকুমার রায়। প্রভাসবাবু ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক। ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকাশিত হয় শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের বিশ্ব র্যাঙ্কিং। তাতে তাঁর নাম ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রযুক্তির জন্য ধারাবাহিকভাবে সাতবছর ধরে তালিকাভুক্ত হয়ে আসছে। গোটা বিশ্বের মাত্র ২ লক্ষ বিজ্ঞানীর নাম থাকে এই তালিকায়। এছাড়া ২০২২ সাল থেকে তিনবছর ধরে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক ‘মেটা এনলেটিকস’-এর তৈরি ‘স্কলার জিপিএস’-এর বিশ্বের শীর্ষ ০.০৫ শতাংশ বিজ্ঞানীদের তালিকাভুক্ত রয়েছেন। শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২০২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাঁকে ‘শিক্ষারত্ন’ পুরস্কার দেওয়া হয়।
প্রভাসবাবু মূলত গবেষণা করেন পাওয়ার সিস্টেম অপটিমাইজেশন, এভোলিউশনারি অ্যালগরিদম, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি (এআই) এবং মেশিন লার্নিং-এর উপর। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই ধারাবাহিক সাফল্যে খুশি কলেজের অধ্যাপক, পড়ুয়া থেকে পরিবার—সকলেই।
প্রভাসবাবুর জন্ম বাঁকুড়া জেলার মেজিয়া গ্রামে। ছোটোবেলা থেকেই তিনি নিজের তাগিদে এবং পরিবারের সহযোগিতায় উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন। দুর্গাপুর থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি।
প্রভাসবাবু ২০১৬ সাল থেকে কল্যাণীতে অধ্যাপনা করছেন। তাঁর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নাল এবং কনফারেন্সে ২৩০টিরও বেশি গবেষণাপত্র রয়েছে। এছাড়া তিনি ২১টি বইয়ের অধ্যায় এবং পাঁচটি আন্তর্জাতিক মানের বইয়ের লেখক ও সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরের একাধিক পুরস্কারও অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর অধীনে ১২ জন পিএইচডি করেছেন এবং আরও কয়েকজন গবেষণা করছেন। প্রভাসবাবু বলেন, ‘আমি একইভাবেই গবেষণার কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’ প্রভাসকুমার রায়। -নিজস্ব চিত্র