নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার যত এগচ্ছে, ততই জমে উঠছে রাজনৈতিক লড়াই। রবিবার শিবপুর ও বালি বিধানসভা কেন্দ্রে জোড়াফুল ও পদ্ম— দুই শিবিরকেই কোমর বেঁধে প্রচারে নামতে দেখা গেল। সকাল থেকে জনসংযোগ, কর্মিসভা ও পথসভাকে ঘিরে সরগরম হয়ে ওঠে এলাকা। প্রার্থীদের ঘিরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো।
রবিবার প্রচারে বেরিয়ে শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, ‘মানুষ ভাতা নয়, ভাত চায়। কর্মসংস্থান চায়, মহিলাদের সুরক্ষা চায়। এই দাবিগুলি পূরণ করতে পারে একমাত্র বিজেপিই।’ এদিন বালিটিকুরির সদানন্দ মঠে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন তিনি। পরে বালিটিকুরি ও সংলগ্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে জনসংযোগ করেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। হাওড়ায় পুর পরিষেবার বেহাল দশার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ, সামান্য বৃষ্টি হলেই জল জমে যায়। অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত পানীয় জলও পাওয়া যায় না। মানুষ এই সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন। জিতে এলে এসব সমস্যাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করা হবে।’ তাঁর দাবি, শিবপুরের বিদায়ী বিধায়কের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ থাকায় দলই তাঁকে সরিয়ে দিয়েছে। বাম শিবিরকেও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, সর্বভারতীয় স্তরে জোট থাকলেও রাজ্যে তারা তৃণমূলকে কার্যত সুবিধা করে দিতে চাইছে।
অন্যদিকে, শিবপুরের বালিটিকুরিতে এদিন তৃণমূল প্রার্থী ডাঃ রানা চট্টোপাধ্যায় কর্মিসভায় যোগ দেন। প্রার্থীকে ঘিরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন হাওড়া সদর কেন্দ্রের সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। সভায় তৃণমূলের উন্নয়নমূলক কাজের কথা তুলে ধরা হয়।
এদিকে, বালি বিধানসভা কেন্দ্রে সকাল থেকেই লাগাতার প্রচার ও জনসংযোগে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেল তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্রকে। সকালে বালি পুরসভার দু’টি ওয়ার্ডের দশটি বুথে প্রচার সারেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথাও শোনেন। এরপর বিকালে বালি দেশবন্ধু ক্লাব প্রাঙ্গণে কর্মিসভায় বক্তব্য রাখেন। সন্ধ্যায় বালির ২৪ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর প্রচারে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে, দলীয় কোন্দল সামলে এদিন প্রচারে নামতে দেখা গেল বালির বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় সিংকে। তাঁর নেতৃত্বে এলাকায় একাধিক জনসংযোগ কর্মসূচি হয়। কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারও করেন তিনি। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, দুই যুযুধান শিবিরের প্রচার ততই ভোটের উত্তাপ বাড়াচ্ছে। নিজস্ব চিত্র