


ঢাকা: ‘পরিবর্তন’-এর বাংলাদেশে ফের বেকসুর খালাস করে দেওয়া হল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে জামাত-ই-ইসলামি নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আজহারুলের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় অন্তত ১ হাজার ২৫৬ জনকে হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ সহ ধর্ষণ, হামলা, বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া ও লুটপাটের অভিযোগ ছিল। ২০১৪ সালে ট্রাইব্যুনাল আজহারুলকে ফাঁসির সাজা দেয়। কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরেই পটপরিবর্তন হয়। শাস্তি মকুবের জন্য আবেদন জানায় আজাহারুল। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ আজহারুলকে সব অভিযোগ থেকে খালাস ঘোষণা করে। মুক্তিযুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মকুবের দৃষ্টান্ত এই প্রথম। যুক্তি হিসেবে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, যে সব তথ্যপ্রমাণ আদালতে হাজির করা হয়েছিল, তা আগের আপিল বিভাগ সঠিকভাবে বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিচারের নামে অবিচার হয়েছে। এদিনই ঢাকার এক আদালত হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদকে অপহরণ ও খুনের চেষ্টায় মামলায় সাংবাদিক শফিক রহমানকে খালাস ঘোষণা করে।
আজাহারুলকে খালাস ঘোষণা করার পরেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের নেতারা। ইউনুস সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, এই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টির কৃতিত্ব জুলাই গণ-আন্দোলনের অকুতোভয় নেতৃত্বের। আজহারুল কীভাবে খালাস পেয়ে গেলেন তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। শুনানির সময় সরকার পক্ষ ঠিকমতো বিরোধিতাই করেনি। জামাত নেতারা রীতিমতো ইউনুস সরকারের উপর চাপ তৈরি করে। জামাতের প্রধান শফিকুর রহমান সম্প্রতি মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে দেখা করেন। এর মধ্যেই রবিবার প্রোটোকল ভেঙে মহম্মদ ইউনুসের বাসভবনে গিয়ে দেখা করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তাত্পর্যপূর্ণভাবে এদিন জামাতের প্রধান জানান, তাঁর দল বা দলের নেতাকর্মীর মাধ্যমে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছেন।
এরই মধ্যে এদিন কুষ্টিয়া শহরের একটি ছাত্রাবাস থেকে বাংলাদেশের শীর্ষ মাফিয়া ডন সুব্রত বাইনকে গ্রেপ্তার করল সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার ভোরে সেনার একটি বিশেষ টিম ওই ছাত্রাবাসে অভিযান চালায়। সুব্রতর কাছ থেকে দুটি বিদেশি রিভলভার, চারটি ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলি ও নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৩০টি খুনের মামলা রয়েছে। এর আগে সুব্রত কলকাতার জেলে বন্দি ছিল। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে নেপালে পালায়। পরে তাকে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল।