Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জমা জলই এবারের নির্বাচনে ইস্যু বরানগরে, রিলস-ভিডিয়ো পোস্ট করে ফায়দা তোলার চেষ্টা বিরোধীদের

জল যন্ত্রণার অবসান কবে? প্রতি ভোটের আগেই নতুন করে এই প্রশ্ন ওঠে বরানগরে। এবারও তার অন্যথা হয়নি। তবে এবার জমা জলকেই মূল হাতিয়ার করতে চলেছে বিরোধীরা।

জমা জলই এবারের নির্বাচনে ইস্যু বরানগরে, রিলস-ভিডিয়ো পোস্ট করে ফায়দা তোলার চেষ্টা বিরোধীদের
  • ২৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: জল যন্ত্রণার অবসান কবে? প্রতি ভোটের আগেই নতুন করে এই প্রশ্ন ওঠে বরানগরে। এবারও তার অন্যথা হয়নি। তবে এবার জমা জলকেই মূল হাতিয়ার করতে চলেছে বিরোধীরা। মিম, রিলস থেকে শুরু করে সমাজমাধ্যমে জমা জলের ভিডিয়ো শেয়ার করে ঘাসফুল শিবিরকে আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধীরা। পালটা বাম জমানায় কয়েক দিনের জমা জল এখন কয়েক ঘণ্টায় নেমে যাওয়ার কথা বলছে তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রথমবার বরানগরে ভোট জিততে মরিয়া বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য আশ্বাস দিতে কার্পণ্য করছে না। তাঁদের দাবি, বিজেপি জিতলে জমা জলের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে বরানগর। 

Advertisement

বরানগরের সিংহভাগ নিকাশি জল বি টি রোডের নীচে দিয়ে পিডব্লুডি রোড হয়ে বিএসএফ ক্যাম্পের গা ঘেঁষে গঙ্গায় গিয়ে পড়ে। ২০২৪ সালে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে বি টি রোড ও পিডব্লুডি রোডের ৫২টি গালিপিট ও ম্যানহোল উঁচু করা হয়। ওই কাজের জন্য কয়েক মাস পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল। কিন্তু ওই কাজ শেষ হওয়ার পরও সমস্যা মেটেনি। এখনও এক পশলা বৃষ্টি হলে সিঁথির মোড় থেকে ডানলপ পর্যন্ত বি টি রোডের বারাকপুরগামী লেন জলের তলায় চলে যায়। মল্লিক কলোনি, ঘোষপাড়া, গিরিশ ঘোষ স্ট্রিট, অনন্যা সিনেমা হল সহ আশপাশের এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান জল দাঁড়িয়ে যায়। পুরসভার দাবি, জাতীয় সড়ক হওয়ার সময় ম্যানহোলের উপর কোমর সমান মাটি ফেলে উঁচু করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বেশ কয়েকটি ম্যানহোল খুঁজে পাওয়া যায়নি। একারণেই সমস্যা দূর করা যাচ্ছে না। নতুন প্রকল্পে রাস্তা আটকে এই কাজ করা হলে সমস্যার সমাধান হবে। সেই প্রক্রিয়াই চলছে। মল্লিক কলোনির বাসিন্দা শুভ্রাংশু পাল, কুন্তল দত্ত বলেন, যতদিন যাচ্ছে জল জমার সমস্যা বাড়ছে। বর্ষার সময় ব্যাগে দু’সেট জামা নিয়ে অফিসে যেতে হয়। বৃষ্টি বেশি হলে জল দু’দিন থেকে যায়।
বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ বলেন, সিপিএম ৩৫ বছরে জমা জল সরাতে পারেনি। তৃণমূলের কাছে এসব আশা করাও অপরাধ। তারা সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে দুয়ারে ড্রেনের জল এনে দিয়েছে। গঙ্গাপাড়ের শহর হলেও শুধুমাত্র পরিকল্পনার অভাবে মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা জিতলে প্রথমে এই সমস্যার সমাধান করব। সিপিএম প্রার্থী সায়নদীপ মিত্র বলেন, বাম জমানায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ হয়েছিল বলেই এখনও বরানগরে এই পরিস্থিতিতে রয়েছে। না হলে বর্ষায় ঘরবাড়ি জলের তলায় থাকত। গত ১৫ বছরে মেলা, খেলা, তোলা এসবই চলেছে। মানুষ তার ন্যূনতম পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। বরানগরের মানুষ আসল সত্য জানেন। তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাম জমানায় বরানগরে বৃষ্টির জমা জল চারদিন পর নামত। এখন চার ঘণ্টায় নামে। ব্রিটিশ আমলের পাইপ লাইনেও সমস্যা আছে। তাসত্ত্বেও পুরসভা কাজ করছে। নতুন প্রকল্প পরিকল্পনার স্তরে আছে। মাত্র দেড় বছর আমি সুযোগ পেয়েছি। এবার জিতলে এই সমস্যার সমাধান করব। আসলে বরানগরের ভৌগোলিক অবস্থান গামলার মতো। তাই বেশি জল জমে। দ্রুত সমস্যার সমাধান আমরা করব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ