Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

জাফারির ‘মোজাইক ডিফেন্স’ কৌশলেই টলানো যায়নি ইরানকে

যৌথ আক্রমণ। একদিকে আমেরিকা, অপরদিকে ইজরায়েল। তাতেও টলানো যায়নি ইরানকে। তেহরানের ধরাশায়ী হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই দূর-দূরান্ত পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।

জাফারির ‘মোজাইক ডিফেন্স’ কৌশলেই টলানো যায়নি ইরানকে
  • ১৪ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০

তেহরান: যৌথ আক্রমণ। একদিকে আমেরিকা, অপরদিকে ইজরায়েল। তাতেও টলানো যায়নি ইরানকে। তেহরানের ধরাশায়ী হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই দূর-দূরান্ত পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। এর মাঝেও প্রথম ভাষণে কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। কোন জাদুতে অটুট ইরানের আত্মবিশ্বাস? আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, এর নেপথ্যে সে দেশের প্রাক্তন সেনাকর্তা মহম্মদ আলি জাফারি এবং তাঁর কৌশল ‘মোজাইক ডিফেন্স’। 

Advertisement

কী এই কৌশল? মোজাইক ডিফেন্স-এ দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনো একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল নয়। বরং বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক ও ইউনিটে বিভক্ত। বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে থাকে ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী। এর ফলে যদি কোনো বড় কমান্ড সেন্টার ধ্বংস হয় বা শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হন, তবুও অন্য  ইউনিটগুলি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে। এই কৌশলের পায়ে ভর করেই বর্তমানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের লাগাতার হানা প্রতিহত করছে ইরান। 
২০০৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডের কমান্ডার ইন চিফ পদে ছিলেন মহম্মদ আলি জাফারি। ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলেন তিনি। সেই কৌশলের নাম দেন ‘মোজাইক ডিফেন্স’। ২০০৩ সালে আমেরিকার হামলার পর দ্রুত ইরাকের শাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। তার আগে ২০০১ সালে আমেরিকার হামলায় পর্যদুস্ত হয়েছিল আফগানিস্তানও। এই দুই হামলার ফলাফল দেখে কপালে ভাঁজ পড়েছিল ইরানের। আলি জাফারি দেখেছিলেন, ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের শাসনব্যবস্থা ছিল কেন্দ্রীভূত। ফলে তাঁকে সরানো মাত্রই গোটা প্রশাসনিক ও সামরিক কাঠামো ভেঙে পড়ে অত্যন্ত সহজে। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। যার সুফল আজ হাতেনাতে পাচ্ছে ইরান।  

সম্পর্কিত সংবাদ