


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি আয়ুর্বেদিক ওষুধের গুণমান খতিয়ে দেখার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হয়েছে আধুনিক গবেষণা কেন্দ্র। সেখানে ওষুধের কার্যকারিতার পাশাপাশি এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টি নিয়েও গবেষণা চলবে। কেন্দ্রীয় সরকার আয়ুর্বেদিক ওষুধ উৎপাদনে বিশেষ জোর দিয়েছে। তবে, টক্সিসিটি রিপোর্ট না-থাকায় সাম্প্রতিক অতীতে বেশকিছু রপ্তানি করা ওষুধ ফিরে এসেছে। তার ফলেই এই ধরনের গবেষণা আরও জরুরি হয়ে পড়েছে।
আজ শনিবার কেন্দ্রের আয়ুষ মন্ত্রকের ১০ কোটি টাকা অনুদানে প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুটের এই গবেষণা কেন্দ্রটি উদ্বোধন করা হবে। উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য ছাড়াও আয়ুষ মন্ত্রকের উপদেষ্টা কৌস্তুভ উপাধ্যায়, দ্য সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিসার্চ ইন আয়ুর্বেদিক সায়েন্সেসের (সিসিআরএএস) ডিরেক্টর জেনারেল রবিনারায়ণ আচার্যের উপস্থিত থাকার কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভাগীয় প্রধান পল্লবকুমার হালদার বলেন, ‘আয়ুর্বেদিক ওষুধ নিয়ে বেশকিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন সেগুলি খুবই নিরাপদ। অথচ এই ওষুধের অনেক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াই রয়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হবে। অনেক ধরনের জড়িবুটি ব্যবহার করে যে ওষুধ তৈরি হয়, সেগুলিও কোনটি কীভাবে কাজ করে, তার বিশ্লেষণ করা হবে।’
আপাতত ঠিক হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের তৈরি ১০টি ওষুধের ফর্মুলেশন যাদবপুরে পাঠাবে। ঝাঁসির কেন্দ্রীয় আয়ুর্বেদিক গবেষণা কেন্দ্র থেকেই সেগুলি আসবে। তিনবছরের মধ্যে সেই ওষুধগুলির ভালোমন্দ যাচাই করে পাঠাবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। এর জন্য টেকিপ বিল্ডিংয়ে ৩০০০ বর্গফুট এবং ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সংলগ্ন ২০০০ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ হয়েছে। পশুদের উপর প্রয়োগ করে ওষুধের গুণমান যাচাইয়ের জন্য বিভাগের অ্যানিম্যাল ল্যাবরেটরিও ব্যবহার করা হবে।
গোটা প্রকল্পই জাতীয় শিক্ষানীতিতে উল্লিখিত ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেমের (আইকেএস) উপরে দাঁড়িয়ে। আইকেএস নিয়ে অভিযোগ, এর মাধ্যমে প্রাচীন জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার নামে পশ্চাদমুখী নানা কর্মকাণ্ড চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে। এর আওতায় গোবর নিয়েও গবেষণা চলছে বেশ কিছু আইআইটি-তে। যদিও, এই প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, আয়ুর্বেদ ওষুধ নিয়ে চর্চাকে সেই পঙ্ক্তিতে ফেলা চলে না। বরং এটিকে আরও বিজ্ঞানমুখী করে তোলা প্রয়োজন, যেটার অভাব রয়েছে।