শিশির ঘোষ: হোসে মোলিনাকে অভিনন্দন। একমাত্র ভারতীয় দল হিসাবে টানা দ্বিতীয়বার আইএএলের লিগ-শিল্ড জিতেছে কামিংসরা। ভারতীয় ফুটবলে এখন রাজ করছে মোহন বাগান। জাতীয় লিগ, আই লিগ ও আইএসএল মিলিয়ে পকেটে ১০০০ পয়েন্ট। এমন কৃতিত্ব অন্য কারও নেই। বড় বাজেট, নিখুঁত পরিকল্পনা আর পেশাদারিত্বের মোড়কে সবার সেরা গঙ্গাপাড়ের ক্লাব।
কিংবদন্তি কোচ পিকে ব্যনার্জি বলতেন, ‘ফুটবল ইজ ওয়ার।’ যে করেই হোক, যুদ্ধে জিততে হবে। খারাপ দিনেও সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নরা প্রতিপক্ষকে টেক্কা দিতে পারে। চলতি মরশুমে মোহন বাগানের পারফরম্যান্সেও তা বারবার প্রমাণিত। একাধিক ম্যাচ উইনার মোলিনা ব্রিগেডের আসল শক্তি। কামিংস, লিস্টন, মনবীর, ম্যাকা কিংবা গ্রেগ স্টুয়ার্ট — ফ্যাব ফাইভকে রুখবে কে? মাঝমাঠ থেকে দুই উইংয়ে বল সুইচ করে স্টুয়ার্টরা। একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে লিস্টন ও মনবীর দেশের সেরা। দুই উইং-হাফ বিপক্ষ উইং ব্যাককে আক্রমণ করে। বল হোল্ড করার প্রবণতা কমাতে পারলে আরও বিপজ্জনক হবে লিস্টন। ব্যক্তিগত মুন্সিয়ানা কাজে লাগিয়ে একাধিক ম্যাচে বিপক্ষকে বশ মানিয়েছে মোলিনা -ব্রিগেড। চান্স ফ্যাক্টর ও লাক ফ্যাক্টরও ছিল তাদের সঙ্গে। এটাই ফুটবল। ভাগ্য সাহসীদের সহায় হয়। পাশাপাশি রক্ষণ সংগঠনের কথাও আলাদা করে বলতে হয়। আনোয়ার বেরিয়ে যাওয়ার কোনও প্রভাব পড়েনি। দুই বিদেশি ডিফেন্ডার আলবার্তো ও আলড্রেডের জুটি আইএসএলের সেরা। নড়বড়ে শুরু করেও ঠিক সময়ে ছন্দে ফিরেছে শুভাশিস। বঙ্গসন্তান দীপ্যেন্দু বিশ্বাস নিঃসন্দেহে প্রতিভাবান। তবে আরও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। দুর্গরক্ষার পাশাপাশি লক্ষ্যভেদও করেছে রক্ষণ। টম, শুভাশিস, আলবার্তো, দীপ্যেন্দুর মোট গোলসংখ্যা ১৪। আমার মতে চমকপ্রদ সাফল্যের এটাও অন্যতম কারণ। আধুনিক ফুটবলে ডেডবল মুভের গুরুত্ব অপরিসীম। কর্নার কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে মোলিনার দল অনেক এগিয়ে। লাস্ট লাইন অব ডিফেন্স বিশাল কাইথ ফর্মের তুঙ্গে। ক্লিনশিটের সংখ্যা ১৫। এবার নিশ্চয়ই জাতীয় দলে প্রথম একাদশে খেলানো হবে বিশালকে।
আইএসএল খেতাব জিতে আপাতত ছুটি কাটাচ্ছে গোটা দল। ট্রফি জিতে চলতি মরশুমে ডাবল করার সুযোগ। আমার ধারণা, নিজেরা ভুল না করলে এই দলকে হারানো মুশকিল। আগামী মরশুমে এসিএল-টু’তে(এশিয়ান চ্যালেঞ্জ লিগ) অংশ নেবে মোহন বাগান। ঘরোয়া ফুটবলে আধিপত্য প্রমাণিত। এবার আর্ন্তজাতিক সাফল্যে ফোকাস করুক টিম ম্যানেজমেন্ট।