নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: কালীপুজো ঘিরে জমজমাট উত্তরবঙ্গ। জলপাইগুড়িতে রামেশ্বরম মন্দিরের সঙ্গে টক্কর দিচ্ছে রাজস্থানের শিসমহল। বিগবাজেটের পুজোয় নজর কাড়ছে ধূপগুড়ি ও ময়নাগুড়ি। থিমের পাশাপাশি তারকাখচিত উদ্বোধনেও একে অপরকে টেক্কা দিতে প্রস্তুত পুজো কমিটিগুলি। গতকাল, শনিবার উদ্বোধনের পর থেকেই মণ্ডপে ঢল নেমেছে দর্শনার্থীদের। তাক লাগাচ্ছে প্যান্ডেল, প্রতিমা থেকে আলোকসজ্জা। গোটা উত্তরবঙ্গের মধ্যে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে বরাবর চোখ ধাঁধানো কালীপুজো হয়ে থাকে। এবারও তার অন্যথা হয়নি। মায়াপুরের ইসকন মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি করেছে ধূপগুড়ির এসটিএস ক্লাব। কলেজপাড়া ইয়ং স্পোর্টিং ক্লাবের থিম ‘মাটির ঘরে আমার মা’। সুহৃদ সংঘ পাঠাগারের থিম ‘ইন্দ্রপুরী’। এভারগ্রিন ক্লাবের কৈলাসযাত্রা থিম সাড়া ফেলেছে। বৈরাতিগুড়ি সর্বজনীনের থিম ‘মহাতীর্থ মহাকুম্ভ’। বিধান সংঘ আমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনাকে কালীপুজোর থিম হিসেবে বেছে নিয়েছে। ইয়ং অ্যাসোসিয়েশনের মণ্ডপে সবুজায়নের বার্তা। নেতাজিপাড়া কালচারাল ক্লাব তৈরি করেছে মীনাক্ষি মন্দির। দু’নম্বর ব্রিজ ঢাংঢিং সর্বজনীনের পুজোর থিমে উঠেছে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা।
জলপাইগুড়ির অন্যতম বিগ বাজেটের পুজো নবারুণ সংঘের। তামিলনাড়ুর রামেশ্বরম মন্দিরের আদলে এবার মণ্ডপ নির্মাণ করেছে তারা। শনিবার রাতে ওই পুজোর উদ্বোধন করেছেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার। নবারুণ সংঘকে টেক্কা দিতে চেষ্টার খামতি রাখেনি জলপাইগুড়ি শহরের আর এক বিগ বাজেটের পুজো কমিটি দাদা ভাই সংঘ। এবার তাদের পুজোর ৪৮ বছর। রাজস্থানের জয়পুরের শিসমহলের আদলে তৈরি হয়েছে এখানকার মণ্ডপ। প্যান্ডেলের পুরোটাই কাচের তৈরি। প্রতিমাও কাচের। গঙ্গারামপুরের প্রতিমাশিল্পী বিপ্লব পাল মণ্ডপেই প্রতিমা তৈরি করেছেন। মণ্ডপসজ্জায় মালদহের শিল্পীরা। আলোকসজ্জা চন্দননগরের।
পিছিয়ে নেই জলপাইগুড়ির সংঘশ্রী ক্লাব কিংবা উদয়ন সংঘ। সংঘশ্রীর পুজোর এবার ৭৫ বছর। ফলে দর্শনার্থীদের চমক দিতে তৈরি তারা। এবার তাদের থিম ‘ভাঙতে ভাঙতে সৃষ্টি’। কয়েক টন ভাঙা কাচ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মণ্ডপ। এছাড়া মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে হোমিওপ্যাথি ওষুধের শিশি ও নেলপালিশের শিশি। এখানকার প্রতিমাশিল্পী জলপাইগুড়ির কৃষ্ণ পাল। আলোকসজ্জা চন্দননগরের। আজ, রবিবার ভারত সেবাশ্রম সংঘের মহারাজ এই পুজোর উদ্বোধন করবেন। কলেজপাড়ায় আনন্দচন্দ্র কলেজের মাঠে উদয়ন সংঘের এবারের থিম ‘সৃজন’। শালপাতার বাটি, ধুধুলের খোসা, নারকেলের ছোবড়া, দড়ি, বটপাতা, তালপাতার পাখা, কতবেলের খোল, চট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্যান্ডেল। মণ্ডপ নির্মাণ করেছেন মেদিনীপুরের শিল্পীরা। জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জেও এবার নজরকাড়া কালীপুজো। এখানকার ডায়মন্ড ক্লাবের এবারের থিম ‘পুরুষের কষ্ট ভালো থাকার জন্য নয়, ভালো রাখার জন্য’। বিভিন্ন মূর্তি দিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ। এখানকার বিশেষ আকর্ষণ থাইল্যান্ডের ধাঁচে প্রতিমা। শিল্প ভাবনা ফুটিয়ে তুলেছেন কোচবিহারের শিল্পীরা।