Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শওকতের ছেড়ে আসা কেন্দ্রে আইএসএফ প্রার্থী সদ্য তৃণমূল ত্যাগী আরাবুল ইসলাম

দু’দশকের বেশি সময় ধরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের একনিষ্ঠ সৈনিক হয়ে কাজ করেছেন। লড়েছেন বিধানসভা নির্বাচনে। বাম আমলে, ২০০৬ সালে ভাঙড় থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি।

শওকতের ছেড়ে আসা কেন্দ্রে আইএসএফ প্রার্থী সদ্য তৃণমূল ত্যাগী আরাবুল ইসলাম
  • ২৪ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দু’দশকের বেশি সময় ধরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের একনিষ্ঠ সৈনিক হয়ে কাজ করেছেন। লড়েছেন বিধানসভা নির্বাচনে। বাম আমলে, ২০০৬ সালে ভাঙড় থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর আর বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি তিনি। বিভিন্ন সময় নানা বিতর্কে নাম জড়িয়েছে এই ‘তাজা নেতা’র। জেল খেটেছেন একাধিকবার। ভোটমুখী বাংলায় সেই আরাবুল ইসলাম ফের চর্চায়। ১৫ বছর পর ফের বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হলেন তিনি। তবে  ঘাসফুল চিহ্ন নয়, খাম প্রতীকে তিনি লড়বেন তাঁরই প্রাক্তন দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে। সোমবার আইএসএফ তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। সেখানেই জানানো হয়, ক্যানিং পূর্ব আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আরাবুল ইসলাম। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভাঙড় ও ক্যানিং পূর্বে তাঁর সমর্থকরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। 

Advertisement

ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বাহারুল ইসলাম। তিনি এক সময় আরাবুলের শুধু সহকর্মী নন, যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেই দাবি এলাকাবাসীর। গত পঞ্চায়েত ভোটের পর সব সমীকরণ বদলে যায়। আরাবুল জেলে যেতেই তৃণমূলের তরফে ভাঙড় দেখভাল করতে শুরু করেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা। ধীরে ধীরে দলের প্রতি তাঁর রাগ-অভিমান বাড়তে তাকে তাঁর। সপ্তাহখানের আগে তিনি তৃণমূল ত্যাগ করেন। তারপর থেকেই তাঁর আইএসএফে যোগদান নিয়ে জল্পনা চলছিল। অবশেষে ভাইজানের পার্টিতে নাম লিখিয়ে ভোটের ময়দানে নিজের অস্তিত্ব তুলে ধরতে মরিয়া আরাবুল। প্রার্থী হয়েই বিপক্ষ প্রার্থীর উদ্দেশে হুংকার ছেড়েছেন ‘তাজা নেতা’। তাঁর বক্তব্য, ‘ক্যানিং পূর্বের মানুষ অনেক অত্যাচার সহ্য করেছে। তারা এবার বদল চাইছে। মানুষ আমাকেই ভোট দিয়ে জেতাবেন।’ ভাঙড়ের বাইরে হলেও এই লড়াই তাঁর কাছে কঠিন নয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে আরাবুলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ শওকত থেকে বাহারুল। দু’জনেই এক সুরে জানিয়েছেন, ক্যানিং পূর্ব হচ্ছে তৃণমূলের গড়। আরাবুল কোনো ফ্যাক্টর নয় এখানে। বরং তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
এদিকে, প্রার্থী ঘোষণা হতেই ভাঙড়ে পা রাখেন নৌশাদ সিদ্দিকি। তাঁকে ঘিরেও ব্যাপক উল্লাস দেখা যায় আইএসএফ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। বেগুনি আবির ছড়িয়ে অকাল হোলিতে মেতে ওঠেন কর্মীরা। সিপিএম এবং আইএসএফের মধ্যে আসন সমঝোতা হওয়ায় ক্যানিং পূর্বে আরাবুলকে প্রার্থী করা নিয়ে সিপিএমের অন্দরে বিড়ম্বনা তৈরি হয়েছে। কারণ, পালাবদলের পর সিপিএমের সঙ্গে আরাবুলের সম্পর্ক যথেষ্ট খারাপ ছিল। এখন তাদের সেই আরাবুলকে সমর্থন জানানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভাঙড়ের সিপিএম নেতা তুষার ঘোষ অবশ্য বিড়ম্বনার কথা মানতে চাননি। তার স্পষ্ট কথা, ‘বিজেপি এবং তৃণমূলকে রুখতে হবে। সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’ সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, আরাবলের সঙ্গে পুরানো সম্পর্ক কেমন ছিল, সেসব বামেরা ভুলে যায়নি।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ