Bartaman Logo
১২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

ভেস্টা কি কোনও গ্রহের ধ্বংসাবশেষ?

মহাবিশ্বের কতটুকুই বা জানা গিয়েছে! সামান্য কিছু জানতে পেরেছে মানুষ। তবে অজানাকে জানার চেষ্টার বিরাম নেই

ভেস্টা কি কোনও গ্রহের ধ্বংসাবশেষ?
  • ১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্বরূপ কুলভী: মহাবিশ্বের কতটুকুই বা জানা গিয়েছে! সামান্য কিছু জানতে পেরেছে মানুষ। তবে অজানাকে জানার চেষ্টার বিরাম নেই। নতুন নতুন রহস্য ও বিস্ময়ের খোঁজ প্রতিনিয়ত চলছে। এরইমধ্যে এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে। তা গ্রহাণু ভেস্টাকে নিয়ে। সৌরমণ্ডলে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য গ্রহাণু। সেগুলির মধ্যে একটি হল এই ভেস্টা। সম্প্রতি আমেরিকার মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, ভেস্টা সম্ভবত একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন গ্রহের বেঁচেবর্তে থাকা অংশ। এতদিন মনে করা হতো, ওটা একটা স্টলড প্রোটোপ্ল্যানেট। অর্থাৎ গ্রহের জন্ম প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়েই সেটি থমকে গিয়েছে। কিন্তু মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এখন যা অনুমান করছেন, তা আগের ধারণার থেকে সম্পূর্ণ উল্টো। তাঁদের গবেষণা রিপোর্ট গত এপ্রিলে নেচার অ্যাস্ট্রোনমি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। 

Advertisement

এখন জেনে নেওয়া যাক কী এই ভেস্টা? কবে এর অস্তিত্ব জানতে পারলেন বিজ্ঞানীরা? আমাদের সৌরমণ্ডলে আটটি গ্রহ। সূর্যের থেকে দূরত্ব অনুসারে চতুর্থ গ্রহ হল মঙ্গল। এর আগের তিনটি গ্রহ হল বুধ, শুক্র ও পৃথিবী। সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। আর মঙ্গলের দূরত্ব ২৩ কোটি ৬৪ লক্ষ কিলোমিটার। মঙ্গলের পরের গ্রহ বৃহস্পতি। সূর্য থেকে গ্রহরাজ রয়েছে প্রায় ৭৮ কোটি কিলোমিটার দূরে। কাজেই মঙ্গল ও বৃহস্পতির মধ্যে একটা বিশাল শূন্যস্থান রয়েছে। প্রথম থেকেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা তা অস্বাভাবিক বলে মনে করতেন। তাঁদের ধারণা ছিল, মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে নিশ্চয়ই আরও একটি গ্রহ রয়েছে। তাই বহুদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা ওই অজানা গ্রহের সন্ধান পাওয়ার জন্য দূরবিন দিয়ে আকাশে চোখ রেখেছিলেন। ১৮০১ সালে  ইতালির জ্যোতির্বিজ্ঞানী জিউসেপ্পে পিয়াজ্জি ওই অঞ্চলে নতুন একটা বস্তু দেখতে পান। তা খুবই অস্পষ্ট আর ছোট্ট। তাহলে কি ওটা কোনও গ্রহ? আরও ভালো করে পর্যবেক্ষণ চলল বিজ্ঞানী মহলে। শেষ পর্যন্ত জানা গেল, ওটা কোনও গ্রহ নয়। বরং হাজার হাজার গৌণগ্রহগুলির একটা। এই সব গৌণগ্রহগুলিকে বলা হয় গ্রহাণু। পিয়াজ্জি তাঁর আবিষ্কার করা এই গ্রহাণুর নাম দিলেন সেরেস। ব্যাস ৯৫০ কিলোমিটার। এইভাবে ১৮০২ সালে পালাস, ১৮০৪ সালে জুনো এবং ১৮০৭ সালে ভেস্টা গ্রহাণুর আবিষ্কার হয়। এরপর থেকে একের পর এক গ্রহাণু আবিষ্কার হতে থাকল। কিন্তু মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার মাঝে কোনও গ্রহের সন্ধান মিলল না। অত্যাধুনিক উপায়ে মহাকাশে ছবি তোলার উপায় হাতে আসার পর প্রচুর গ্রহাণুর হদিশ মিলল। সেই সূত্রেই জানা গেল মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে রয়েছে সুবিস্তৃত গ্রহাণু বলয়। এই বলয়েরই অংশ ভেস্টা। এটি গ্রহাণু বলয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহাণু। এর ব্যাস ৫৩০ কিলোমিটার। মহাকাশে এটা কোথায় থাকে, তা জানা থাকলে খালি চোখেই দেখা যায়। সৌরমণ্ডলের ছোট, পাথুরে বস্তুগুলিকে বলা হয় গ্রহাণু। এগুলিও সূর্যের চারদিকে ঘোরে। এগুলির কোনও বায়ুমণ্ডল নেই। মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও যৎসামান্য। বিজ্ঞানীদের অনুমান, গ্রহাণুগুলো মূলত সৌরজগতের উৎপত্তির সময় বেঁচে যাওয়া ছোট বস্তু। যেগুলো বড় গ্রহে পরিণত হতে পারেনি।
এখন মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের অনুমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় সাড়ে চারশো কোটি বছর আগে আমাদের সৌরজগৎ তৈরি হয়েছিল। সেই সময় সৌরজগতে সম্ভবত আরও একটি বড় গ্রহ ছিল। পরে সেটি বড়সড় কোনও সংঘর্ষের ফলে ধ্বংস হয়ে যায়। সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একটা অংশ অক্ষত থেকে যায়। সেটাই এখনকার ভেস্টা। বলে রাখা দরকার, এটা গবেষকদের প্রাথমিক অনুমান। তবে, তাঁরা এই ধারণার সপক্ষে যুক্তিও দিয়েছেন। গবেষকরা এই গ্রহাণুর গঠন বিশ্লেষণ করে দেখেছেন। এর ভিত্তিতে গ্রহের গঠনের সঙ্গে তাঁরা কিছু মিল খুঁজে পেয়েছেন।  গবেষকদের এই তত্ত্ব সৌরজগতের সূচনা পর্ব, গ্রহগুলি কীভাবে তৈরি হল— এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার ক্ষেত্রে নয়া দিশা দেখাতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ