


কাঠমাণ্ডু: বুদ্ধের দেশ নেপাল। হিমালয়ের কোলের এই ছোট্ট দেশই পুড়ছে অশান্তির আগুনে। সমাজ মাধ্যম নিষিদ্ধ করবার প্রতিবাদে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা গড়িয়েছে হিংসাত্মক দিকে। আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। কিন্তু তারপর পরিস্থিতি শান্ত হওয়া তো দূরের কথা, বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কার মতোই লুঠপাট, আগুন ধরানোর মতো ছবি দেখা গিয়েছে। বুদ্ধের দেশের এই অশান্তি কী শুধুই স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ? তেমনটা কিন্তু মনে করছেন না ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই । বরং তাঁদের মতে এর পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। আন্দোলনের ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করেছে ষড়যন্ত্রকারীরা।
কাঠমাণ্ডুর বিশিষ্ট সাংবাদিক নম্রতা শর্মা বলেছেন, ‘গত ৮ সেপ্টেম্বর সোশ্যাল মিডিয়া আন্দোলন শুরুর আগে কোনও ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে মনে করছি না। কিন্তু তারপরে যেভাবে গোটা দেশজুড়ে ভাঙচুর ও অশান্তির ঘটনা ঘটেছে তাতে অন্য বাইরের কারও মদত রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আন্দোলনের মোড় হিংসার দিকে ঘোরানো জেন জেডদের পরিকল্পনার অংশ ছিল না। কিন্তু পরবর্তীকালে কেউ কেউ পরিস্থিতির সুবিধানিয়েছে।’
ষড়যন্ত্রের দাবি করছেন লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সি কে লালও। তিনি বলেছেন, ‘নেপালের ষড়যন্ত্রকারীরা আগুন জ্বালিয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির উপর তাঁদের নিয়ন্ত্রণ খুব অল্পই ছিল। যেভাবে দেশজুড়ে সুসংহতভাবে হামলা হয়েছে, মনে হয় বেশকিছুদিন ধরেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা মাত্র ৪ দিন ছিল। এত কম সময়ে এত বড় সহিংস আন্দোলন সংগঠিত করা সম্ভব নয়।’
বাংলাদেশের পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে নেপালের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত লোক রাজ বড়াল বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আন্দোলনের পর শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু নেপালে তেমন কিছু হয়নি। দেশের মধ্যেই কিছু মানুষ আছেন, যারা সংবিধানের শাসন চান না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উত্তরে ও দক্ষিণে দুটি শক্তিশালী দেশ রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিমাদেশগুলির নজরে থাকে নেপাল। সেক্ষেত্রে সবসময় আমাদের আভ্যন্তরীণ মামলায় বাইরের দেশের দখলদারির একটা আশঙ্কা থাকেই।’