


ওয়াশিংটন, ১০ এপ্রিল: মধ্যপ্রাচ্যে আপাতত ইরান ও আমেরিকা-ইজরায়েলের মধ্যে দুই সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি চলছে। এই বিষয়ে আজ, শুক্রবার পাকিস্তানের একটি শহরে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা। এর জন্য ইতিমধ্যেই আমেরিকা থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন আমেরিকার ভাইস প্রেডিডেন্ট জেডি ভান্স। বৈঠকে আমেরিকার হয়ে তিনিই প্রতিনিধিত্ব করবেন। তাঁর সঙ্গে থাকবেন জারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ। এদিনের বৈঠকে আমেরিকার প্রতিনিধি হিসেবে ভান্সকে পাঠানো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক বিশেষ কৌশল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ইরান যুদ্ধ নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মতও পোষণ করেছিলেন ভান্স। এমনকী সামরিক অভিযান চালানো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বৈঠকে কে থাকবেন সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। তবে মনে করা হচ্ছে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৈঠকে তেহরানের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। তার সঙ্গে থাকতে পারেন সেদেশের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ। বৈঠকের গুরুত্ব বুঝে পাকিস্তানের যে শহরে ইরান-আমেরিকার বৈঠক হবে সেটি নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। পাক রেঞ্জার্স এবং সেনা আধিকারিকরা শহরটির নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। আমেরিকা বরাবরই চায় ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমর্পণ করুক। এই বিষয়টি নিয়েও আজকের বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। যদিও ইরান এই বিষয়ে রাজি হবে কী না তা নিয়ে অবশ্য সংশয় রয়েছেই।
অপরদিকে, আজ হরমুজ প্রণালী খোলা নিয়ে ফের ইরানকে তোপ দেগেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাড়িয়েছেন চাপও। আজ দুই দেশের বৈঠকের আগে তিনি জানান, সংঘর্ষবিরতি হয়েছিল এই শর্তে যে হরমুজ খুলে দেবে ইরান। জাহাজ-ট্যাঙ্কার চলাচল করতে দেওয়া হবে। কিন্তু তা এখনও পর্যন্ত হয়নি। ফলে চুক্তিভঙ্গই করেছে তেহরান প্রশাসন। অন্যদিকে, ইরান গতকাল সন্ধ্যায় জানায়, হরমুজে দৈনিক ১৫টি জাহাজ চলাচলে অনুমতি দেওয়া হল। এরজন্য আইএরজিসির কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। শোনা যায়, হরমুজের জলপথে যাতায়াতকারী জাহাজ-ট্যাঙ্কারদের কাছ থেকে শুল্কও আদায় করতে পারে তেহরান।