


তেহরান: পাকিস্তানে মার্কিন-ইরান শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। এরপরেই ইরানকে ভাতে মারতে হরমুজ প্রণালী অবরোধের ঘোষণা করেছে আমেরিকা। ইরানও থেমে থাকার পাত্র নয়। সুর চড়িয়ে তাদের বার্তা— ডুবলে সবাইকে নিয়েই তারা ডুববে। কয়েক দশক ধরে পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের উপকূলবর্তী বন্ধু রাষ্ট্রগুলিকে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে আমেরিকা। সোমবার আইআরজিসি সাফ জানিয়েছে, ‘পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের বন্দরগুলির নিরাপত্তা হয় সকলের জন্য থাকবে। নয়তো কারও থাকবে না।’ অর্থাৎ আমেরিকা হামলা চালালে বা কোনো পদক্ষেপ করলে পারস্য উপসাগরের আশপাশের দেশের বন্দরগুলিতে হামলা চালাবে ইরান। তেহরানের আরও হঁশিয়ারি, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো বন্দরই অবশিষ্ট রাখব না।’
সংঘর্ষবিরতির মাঝে দুই পক্ষের তাল ঠোকাঠুকির জেরে বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম আবার চড়তে শুরু করেছে। সোমবার ব্যারেল পিছু দাম ১০০ ডলার পার করেছে। ৮ শতাংশ বেড়ে ইউএস ক্রুডের (ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডেয়েটস) দাম হয়েছে ১০৪.২৪ ডলার প্রতি ব্যারেল। অন্যদিকে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০২.২৯ ডলার। যুদ্ধ শুরুর পর তেলের ব্যারেল প্রতি দাম ৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ১১৯ ডলারে পৌঁছে যায়। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তা ৯৫ ডলারে নেমে আসে। ফলে ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
হরমুজ অবরোধ নিয়ে আমেরিকাকে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। তাদের সেনা উপদেষ্টা মহসেন রিজাই এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘হরমুজ অবরূদ্ধ করলে ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার উজাড় করে প্রতিরোধ করা হবে।’ তাঁর সাফ কথা, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু মন্তব্য এবং কাল্পনিক পরিকল্পনাকে ইরান ভয় পায় না। ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের কালিবাফও সাফ জানিয়েছেন, ‘তোমরা যুদ্ধ করলে আমরাও ছেড়ে কথা বলব না।’
শনিবারের শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার দায় একে অপরের উপর চাপিয়েছে আমেরিকা এবং ইরান। এরপরেই সোমবার ইরানের সময় বিকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে হরমুজ প্রণালী অবরূদ্ধ করার কথা ঘোষণা করে ওয়াশিংটন। সেইমতো অবরোধের প্রক্রিয়া শুরুও করে দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ‘ওমান সাগর এবং পারস্য উপসাগরে ইরানের বন্দরে নোঙর করতে যাওয়া বা সেখান থেকে আগত সব দেশের জাহাজের উপর এই অবরোধ কার্যকর হবে।’ জাহাজ চলাচলের উপর নজরদারি গোয়েন্দা সংস্থা লয়েড’স লিস্ট জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অল্প হলেও জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে অন্তত ৪০টি জাহাজ হরমুজ পার করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে দিনে ১০০ থেকে ১৩৫টি জাহাজ এই সমুদ্র পথে পার হত।