নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ইরান যে এরকম এক বিস্ময়কর ও অপ্রত্যাশিত কৌশল নিয়ে প্রত্যাঘাত ফরমুলা নিতে পারে সেকথা আমেরিকার ও ইজরায়েল আগাম আন্দাজ করেনি। আন্দাজ ও প্রস্তুতি যে ছিল না, তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। বিগত ৪৮ ঘণ্টায় পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার বন্ধু রাষ্ট্রগুলির উপর ইরান মিসাইল ও ড্রোন হামলা করছে বিনা বাধায়। আরব দুনিয়ার হোটেল থেকে তেল সংশোধনাগার। মার্কিন ঘাঁটি থেকে ব্রিটিশ ও ফরাসি ঘাঁটিতে আছড়ে পড়েছে ড্রোন ও মিসাইল। অপ্রত্যাশিত ও অভাবিত ক্ষতি হয়েছে এইসব হামলার জেরে। বস্তুত ইরান যেন শপথ নিয়েছে, আমরা তো ডুববই। কিন্তু যথাসম্ভব অন্যদেরও ক্ষতি করব। ইরানের কাছে দেড়শো কিলোমিটার থেকে ৩ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জের মিসাইল ভাণ্ডার রয়েছে। ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে সেইসব মিসাইল ও ড্রোন নিক্ষেপ করলে ইজরায়েল ও মার্কিন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম আটকে দেবে। সেই শক্তির সঙ্গে ইরানের পেরে ওঠা কঠিন। তাই ইরান আরব দুনিয়াকে টার্গেট করেছে। যারা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিল। ইরানের কাছে রয়েছে ৩ হাজার কিলোমিটার রেঞ্জের সৌমর মিসাইল, সেজিল মিসাইলের রেঞ্জ ২ হাজার কিলোমিটার। ১৩০০ কিলোমিটার শাহাব মিসাইল। এই তাবৎ মিসাইল পশ্চিম এশিয়ার সব রাষ্ট্রকে আঘাত করতে সক্ষম। কয়েকটি মিসাইল ইউরোপের একঝাঁক দেশকে টার্গেট করতে পারবে। ইউরোপ এখনও সরাসরি ইরানকে আঘাত করেনি। তাই ইরান তাদের টার্গেট করেনি। ব্রিটেন যেমন জানিয়ে দিয়েছে তারা যোগ দিচ্ছে না আক্রমণে। স্পেন উলটে ইজরায়েল ও আমেরিকার সমালোচনাই করেছে। তেহরানের কাছে রয়েছে ফতে ওয়ান এবং ফতে টু হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল। যা ১৫০০ কিলোমিটার রেঞ্জসম্পন্ন। একা ইরান নয়। ইরানের হয়ে এবার ইজরায়েল বিরোধী আক্রমণে নেমেছে হুতি এবং হিজবুল্লাও। পাশাপাশি হামাস তো আছেই। সুতরাং ইরানকে আক্রমণ করলেও, ইজরায়েল, আমেরিকার কাছে খুলে গিয়েছে একাধিক ফ্রন্ট। লেবানন, ইয়েমেনও এবার ইজরায়েলের বিরুদ্ধে চালাচ্ছে আক্রমণ। রাশিয়া এবং চীন এখনও প্রত্যক্ষভাবে কোনো সামরিক সাহায্য দেয়নি। কিন্তু ইরান একসঙ্গে এতগুশো দেশে ড্রোন ও মিসাইল নিক্ষেপ করার আত্মবিশ্বাস সম্পূর্ণ একক শক্তিতেই কি পাচ্ছে?



