


তেল আভিভ: রাতের আকাশে আলোর ঝলকানি। বিকট শব্দে আছড়ে পড়ল ইরানের মিসাইল। মুহূর্তেই ছারখার ইজরায়েলের ‘লিটল ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত ডিমোনা শহরের একাংশ। ক্ষতিগ্রস্ত পাশ্ববর্তী শহর আরাদও। ভেঙে পড়ে বহুতলগুলির একের পর এক দেওয়াল। রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করতে থাকে আহতরা। ইট,রড আর ধ্বংসস্তূপের ভিড়ে টর্চ হাতে উদ্ধারে ব্যস্ত সেনা। শনিবার, ইদের দিন মধ্যরাতে এমনই ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থাকল ইজরায়েল। জখম প্রায় ১৮০ জন। ডিমোনাতেই রয়েছে ইজরায়েলের শিমন পেরেজ নেগেভ পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র। জানা গিয়েছে, সেটিই ছিল ইরানের লক্ষ্যবস্তু। যদিও এপর্যন্ত কোনো তেজস্ক্রিয় বিকিরণের খবর মেলেনি। শনিবার ইরানের নাতান্জ পরমাণু কেন্দ্রকে ফের নিশানা করেছিল ইজরায়েল ও আমেরিকা। তার ঠিক কয়েকঘণ্টার মধ্যেই পালটা হামলা চালিয়ে বদলা নিল তেহরান।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, আর মাত্র কয়েকদিনের ব্যাপার। যুদ্ধ প্রায় জিতে গিয়েছে আমেরিকা। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও দাবি করেছিলেন, ইরানের সামরিক পরিকাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে। ইরানের হামলার ব্যাপকতা তাঁদের দাবির সারবত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।
ইজরায়েলের স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, ডিমোনা ও আরাদে ইরানের হামলায় জখম শিশু সহ ১৮০ জন। ডিমোনায় জখম ৬৪ ও আরাদে ১১৬। ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল, সেনা ও মেডিকেল টিম। আহতদের হাসপাতালে ভরতি করা হয়। আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। প্রসঙ্গত, ডিমোনা শহরে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইহুদিদের বসবাস। এদের মধ্যে মারাঠির সংখ্যাই বেশি। বেশিরভাগই ১৯৫০-এর পর ভারত থেকে এখানে বসতি গড়েছিল। সেইসূত্রে শহরটিকে ‘লিটল ইন্ডিয়া’ বলে ডাকা হয়। এলাকায় মারাঠি, হিন্দি ভাষার পাশাপাশি বলিউড গানও শোনা যায়। অলিগলিতে ক্রিকেট খেলা হয়। গুলাব জামুন, জিলিপি, পাপড়ি চাট, ভেলপুরির মতো খাবারও মেলে। তবে ইরানের হামলায় তাদের কেউ আহত হয়েছে কিনা জানা যায়নি।
ইজরায়েলের দাবি, ইরানের হামলায় একটি কমিউনিটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইজরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতাতেই শত শত কেজি বিস্ফোরক সহ মিসাইল সরাসরি আঘাত হেনেছে। এই ঘটনায় নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি, ‘শত্রপক্ষকে রেয়াত করা হবে না। পালটা জবাব দেওয়া হবে।’এরইমাঝে এদিন হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়েছে ইরান।