Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে ইরান-ইজরায়েল, পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তিপ্রতিষ্ঠার আশা

পারস্পরিক শত্রুতা, অবিশ্বাস ও সন্দেহের পরিবেশ এখনও সেই তিমিরেই। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধবিরতি আপাতদৃষ্টিতে বড়ই ‘ঠুনকো’। তবে তার মধ্যেই উঁকি দিচ্ছে আশার আলো— দীর্ঘস্থায়ী শান্তিপ্রতিষ্ঠা হবে পশ্চিম এশিয়ায়।

স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে ইরান-ইজরায়েল, পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তিপ্রতিষ্ঠার আশা
  • ২৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দুবাই: পারস্পরিক শত্রুতা, অবিশ্বাস ও সন্দেহের পরিবেশ এখনও সেই তিমিরেই। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধবিরতি আপাতদৃষ্টিতে বড়ই ‘ঠুনকো’। তবে তার মধ্যেই উঁকি দিচ্ছে আশার আলো— দীর্ঘস্থায়ী শান্তিপ্রতিষ্ঠা হবে পশ্চিম এশিয়ায়।

Advertisement

মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির শুরুটা কিন্তু মোটেও মধুর ছিল না। সংঘর্ষ থামানোর কথা ঘোষণা সত্ত্বেও ইরান, ইজরায়েল দু’পক্ষই পরস্পরকে নিশানা বানিয়েছে। তবে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়েছে বিস্ফোরণের শব্দ। থেমেছে সাইরেন। ক্রমশ স্বাভাবিক জীবনের পথে ফিরতে শুরু করেছে দুই দেশই। নাইট শেল্টার ছেড়ে বাড়ির পথে তেল আভিভ সহ ইজরায়েলের অন্যান্য শহরের বাসিন্দারা। বুধবার একই চিত্র ইরানেও। সরকারি টেলিভিশন জানাচ্ছে, তেহরানের উপকণ্ঠে কাস্পিয়ান সাগর সংলগ্ন অঞ্চল ও অন্যান্য গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক যানজট। যুদ্ধের কারণে তেহরান ছাড়া মানুষ ফের বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। শহরমুখী রাস্তায় তাই গাড়ির দীর্ঘ লাইন।
নেদারল্যান্ডসে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে আসার আগে মঙ্গলবার দৃশ্যতই রুষ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়া সত্ত্বেও ইরান, ইজরায়েল দুই দেশই হামলা বজায় রেখেছে। আমি মোটেও খুশি নই। বিশেষ করে ইজরায়েলের ভূমিকায় হতাশ।’ তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বোমার ব্যবহার বন্ধ হয়েছে। বুধবার ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকেই তাই সন্তোষ প্রকাশ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সাংবাদিকদের বললেন, ‘পরিস্থিতির ভালোই উন্নতি হয়েছে।’ ইরান সম্পর্কে তাঁর পূর্বাভাস, ‘ওরা আর নতুন করে (ইউরেনিয়াম) সমৃদ্ধকরণের পথে এগবে না। বোমা বানাবে না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই দাবি করছেন বটে। তেহরানের ভাবগতিকে কিন্তু সেই অর্থে বিশেষ কোনও পরিবর্তন আসেনি। এমনিতে ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে। তাদের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার। যুদ্ধ থামার পরও নরম হয়নি সুর। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ হবে না। উল্টে তিন পরমাণু কেন্দ্রে হামলার জন্য আমেরিকার কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানাবে তারা। শুধু তাই নয়, ইরান পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে পাশ হওয়া একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নজরদারি সংগঠন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করা হবে। ভোটাভুটি শুরুর আগে পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের কালিবাফ বলেন, ‘ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে মার্কিন হামলার নিন্দাটুকু করার মতো কোনও সদিচ্ছা দেখায়নি আইএইএ। তাই আমাদের পরমাণু কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আইএইএ-র সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ থাকবে। সেই সঙ্গেই ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি আরও বেশি গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।’ এদিকে ভিয়েনায় আইএইএ-র ডিরেক্টর জেনারেল রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসির বক্তব্য, ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে পরিদর্শন সংক্রান্ত আলোচনা শুরু করার বিষয়ে ইতিমধ্যেই তেহরানকে চিঠি লিখেছি। খামেনেইয়ের দেশের হাতে থাকা ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার নতুন করে খতিয়ে দেখতে পরিদর্শন শুরু হওয়া জরুরি। রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন হামলার আগেই পরমাণু কেন্দ্রগুলি থেকে ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরিয়ে ফেলেছিল ইরান। 

সম্পর্কিত সংবাদ