


ওয়াশিংটন: মার্কিন নৌসেনার গর্বেই কি এবার আঘাত হানল ইরান? শুক্রবার এমনটাই দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তারা জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। কতটা ক্ষতি হয়েছে পরমাণু শক্তিচালিত এই এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ারের? তেহরানের দাবি, লিঙ্কন তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাই হারিয়ে ফেলেছে। আর তাই পশ্চিম এশিয়া থেকে ক্রমশ পিছু হটছে সেটি। কয়েকটি সংবাদমাধ্যম আবার দাবি করেছে, ইরানের হামলায় যুদ্ধজাহাজটির রেডার সহ বিভিন্ন যন্ত্রের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কার্যত অচল হয়ে তা মাঝসমুদ্রে দাঁড়িয়ে। আইআরজিসির দাবি প্রকাশ্যে আসার পরেই জবাব দিয়েছে আমেরিকাও। এদিন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড একাধিক ছবি প্রকাশ করে জানিয়েছে, লিঙ্কনের কোনো ক্ষতিই হয়নি।
ইরান সংঘাতের প্রথম সপ্তাহেই মার্কিন কোষাগার থেকে খরচ হয়ে গিয়েছে ১১০০ কোটি ডলার। প্রথম ৪৮ ঘণ্টাতেই ৫৬০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে পেন্টাগন। তার উপর মার্কিন মুলুকে বাড়ছে তেলের দাম। ক্ষতির বহরে চাপ বাড়ছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপর। তাত্পর্যপূর্ণভাবে, বুধবারই জি৭ গোষ্ঠীর রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান দ্রুত আত্মসমর্পণ করবে। তার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই লিঙ্কনের উপর হামলার খবর মিলল। যদিও পিছু হটতে নারাজ ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘ওরা (ইরান সরকার) ৪৭ বছর ধরে সারা বিশ্বে নির্দোষ মানুষকে খুন করেছে। আর এখন আমি, আমেরিকার ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে ওদের মারছি। এটা বড়ো সম্মানের বিষয়!’
গত জানুয়ারিতে পশ্চিম এশিয়ায় দুটি এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ার ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড এবং লিঙ্কনকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। লিঙ্কনের সঙ্গী হিসাবে আরব সাগরে টহল দিচ্ছে দুটি ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুয়ান্স এবং মাইকেল মার্ফি। একই জায়গায় মোতায়েন আরও ছ’টি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। ইরানি সেনার সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার দাবি করেছে, উন্নত প্রযুক্তির ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোনের সাহায্যে লিঙ্কনকে লক্ষ্য করে নিখুঁত আক্রমণ চালানো হয়। সেই সময় যুদ্ধজাহাজটির অবস্থান ছিল ওমান সাগরে, ইরানের জলসীমা থেকে ৩৪০ কিলোমিটার দূরে। ইরানের সরকারি টেলিভিশনও দাবি করেছে, মিসাইল ও ড্রোন আক্রমণের শিকার হয়ে ইউএসএস লিঙ্কন এবং পুরো স্ট্রাইক গ্রুপের সমস্ত জাহাজ দ্রুত ওই এলাকা ছেড়ে ‘পালিয়ে’ যায়। গত ফেব্রুয়ারিতেও রণতরীটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল ইরান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের একটি ভেসেল ইউএসএস লিঙ্কনের খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল। মার্কিন নৌসেনা ওই ভেসেল লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ভেসেলটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশ্বের বৃহত্তম ক্যারিয়ার ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডেও আগুন লাগার খবর মিলেছে। আগুনে আহত হয়েছেন দুই সেনা।