নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এপ্রিল মাসে ২৩ এবং ২৯ তারিখে দুই দফায় রাজ্যে নির্বাচনের দিন ঘোষিত হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ওইসময় তাপপ্রবাহের তীব্র গরম থেকে কালবৈশাখীর ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। আবার এপ্রিল-মে মাসে বঙ্গোপসাগরে কোনো নিম্নচাপ তৈরি হলে সেটি শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির মরশুম আরম্ভ হয়। তাই সব মিলিয়ে ভোটের সময় বিভিন্ন ধরনের চরম আবহাওয়া নিয়ে প্রতিকূলতার আশঙ্কা থাকছেই। মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
সাম্প্রতিক অতীতে রাজ্যে আইলা, উম-পুন বা যশ নামক ঘূর্ণিঝড়গুলি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছিল। সেগুলির সবই হয়েছিল মে মাসের শেষদিকে। তবে আবহাওয়ার অতীত রেকর্ড বলছে, এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ সময়ের মধ্যে ২০০০ সালের পর থেকেও উত্তর বঙ্গোপসাগরে তিনটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছিল। এগুলি হল—মালা (২০০৬), নার্গিস (২০০৮) এবং বিজলি (২০০৯)। অবশ্য পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে এগুলি আসেনি। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বাংলাদেশ ও মায়ানমারে। ২০১৯ সালে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণি বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছিল এপ্রিল মাসের শেষলগ্নে। এটি ওড়িশার পুরীর কাছে আছড়ে পড়ে মে মাসের শুরুতে। পশ্চিমবঙ্গেও এই ঘূর্ণিঝড়টির কিছুটা প্রভাব পড়েছিল। বেশ কয়েকজনের মৃত্যু এবং অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়। তাই আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, ভোটপর্বে রাজ্যে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাসও জানান, বর্ষা আসার আগে এপ্রিল-মে মাস এবং বর্ষার পরে অক্টোবর-নভেম্বর মাস বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি থাকে।
তবে এপ্রিল মাসে ভোটের দিন এবং তার আগে দীর্ঘ প্রচার পর্বে সর্বাধিক চিন্তা থাকে প্রচণ্ড গরম ও কালবৈশাখী নিয়ে। মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই কোথাও কোথাও ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছুঁয়েছে। এপ্রিল মাসে পশ্চিমাঞ্চলসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা সাধারণত আরো বেড়ে ৪০ ডিগ্রির আশপাশে ও উপরে চলে আসে। কলকাতা ও লাগোয়া এলাকাতেও কখনোসখনো সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির আশপাশে চলে আসে। বিভিন্ন জায়গায় বেশি তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সাম্প্রতিককালে পশ্চিমাঞ্চলে ৪৪-৪৫ ডিগ্রির আশপাশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নজির আছে। এবারও তাপপ্রবাহ পশ্চিমবঙ্গসহ পূর্ব ভারতে স্বাভাবিকের থেকে বেশি হতে পারে। এমন সম্ভবনার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নিম্নচাপ অক্ষরেখা বা ঘূর্ণাবর্ত হলে বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। তখন শক্তিশালী বজ্রমেঘ থেকে কালবৈশাখী ঝড়বৃষ্টি হয়। মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিলে জোরালো কালবৈশাখীর সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি বলেই মনে করেন আবহাওয়াবিদরা। কারণ ওইসময় শক্তিশালী বজ্রমেঘ তৈরির প্রবণতা বাড়ে। ভোটের সময় নেতাদের প্রচারে হেলিকপ্টার এবং বিমানের ব্যবহার বাড়ে। ঘূর্ণিঝড়ের মরশুমে এই ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা রাখতে হয়। আবহাওয়া কর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, ভোটের দুদিন বা তার আগে প্রচার পর্বে প্রচণ্ড গরম থেকে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে। তবে কখন কী হতে পারে তা এত আগে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেবে আবহাওয়া দপ্তর।