


অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: এবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবেন বিভিন্ন শিল্পজগতের পেশাদাররা। ‘প্রফেসার্স ইন প্র্যাকটিস’ নিয়োগ করার ব্যাপারে উদ্যোগ নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। আগের সিন্ডিকেট বৈঠকে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ, বুধবার সিন্ডিকেটে সেই কমিটি গঠনের বিষয়টি চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাবে। সেই কমিটিই এ ধরনের অধ্যাপক নিয়োগের বিষয়ে রূপরেখা স্থির করবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, উপাচার্য আশুতোষ ঘোষের প্রতিনিধি এবং ডিনদের রেখে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, জাতীয় শিক্ষানীতিতেই প্রফেসার্স ইন প্র্যাকটিসের আইডিয়াটি দেওয়া ছিল। পরবর্তীতে ইউজিসিও এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করে। তাতে বলা হয়েছিল, ইন্ডাস্ট্রি প্রফেশনালরা তো বটেই, চাইলে অবসরপ্রাপ্ত আমলা, সরকারি আধিকারিক এমনকি, গৃহবধূদেরও নিযুক্ত করা যাবে এই পদে। এ নিয়ে তখন রীতিমতো বিতর্ক হয়েছিল। তবে, পরবর্তীতে বহু বিশ্ববিদ্যালয়ই এ ধরনের অধ্যাপক নিয়োগের পথে হাঁটেনি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েও এই ব্যবস্থা চালু ছিল না। তবে, এবার তা কার্যকর করতে চাইছে কর্তৃপক্ষ।
ডিন টেকনোলজি নবেন্দু চাকি বলেন, বিষয়টি প্রযুক্তির বিষয়গুলির জন্য খুবই সহায়ক হবে। তাই এটিকে স্বাগত জানাচ্ছি। তবে, এটাও দেখতে হবে দীর্ঘদিন কর্পোরেট জগতে কাটিং এজ টেকনোলজিতে কাজ করে আসা পেশাদাররা ছাত্রছাত্রীদের প্রজেক্টের কাজে কতটা সাহায্য করতে পারছেন। কারণ অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রটা অনেকটাই আলাদা। তাই, দু’তরফের চাহিদা বুঝেই এ ধরনের শিক্ষকদের আনতে হবে। সেই কারণেই কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তবে শুধু প্রফেসার্স ইন প্র্যাকটিসই নয়, এমেরিটাস প্রফেসার এবং অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসার নিয়োগের বিষয়টিও এই কমিটি দেখবে। সম্প্রতি অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসার পদে প্রাক্তন অন্তর্বর্তী উপাচার্য শান্তা দত্ত দে’র যোগদান নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। এমনকি, নিয়োগপত্র জটিলতায় তাঁকে কর্তৃপক্ষ এই পদ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ায় তিনি পালটা মামলা করেছেন। শীতকালীন অবকাশের পর মামলাটি হাইকোর্টে ওঠার কথা। এই আবহে অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসার নিয়োগ নিয়েও একটি সুসংহত রূপরেখা তৈরি রাখতে চাইছে কর্তৃপক্ষ। এই মুহূর্তে যতজন অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন, সবাই সাম্মানিক দায়িত্বে রয়েছেন। এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্মানিক এমেরিটাস পদে রয়েছেন একজনই অধ্যাপক। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তথা ইংরেজির অধ্যাপক চিন্ময় গুহ। এমেরিটাস প্রফেসার নিয়োগ নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও সুনির্দিষ্ট নীতি না-থাকায় তাঁকে পাকাপাকি এই দায়িত্ব দেওয়া যায়নি। এটি কার্যকর হলে আরও গুণী অধ্যাপককে এমেরিটাস প্রফেসার হিসেবে নিয়োগের পথ সুগম হবে বলেই মনে করছে কর্তৃপক্ষ।