নয়াদিল্লি: ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আবহে ইসলামাবাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল চীন ও তুরস্ক। তুরস্কের ড্রোন, চীনা যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছিল শাহবাজ শরিফ সরকার। শুধু পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েই ক্ষান্ত হয়নি বেজিং, ভারতীয় সেনাবাহিনী ও ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে লাগাতার ভুল তথ্যও প্রচার করে গিয়েছে। এই অভিযোগে বুধবার চীনের দু’টি সরকারি প্রচারমাধ্যমের এক্স হ্যান্ডলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল মোদি সরকার। এই তালিকায় রয়েছে চীনের সরকারি সংবাদপত্র ‘গ্লোবাল টাইমস’ ও সংবাদ সংস্থা ‘জিনহুয়া’। ছাড় পায়নি তুরস্কের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘টিআরটি ওয়ার্ল্ড’-এর এক্স হ্যান্ডলও। সূত্রের খবর, এরদোগানের দেশের সরকারি সংবাদমাধ্যম থেকে ভারতবিরোধী ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়েছে। এমনকী পাকিস্তানকে ৩৫০টিরও বেশি ড্রোন ও তা চালনার জন্য লোকও পাঠিয়েছিল তুরস্ক। ভারতের প্রত্যাঘাতে তুরস্কের দুই ড্রোন অপারেটরের মৃত্যুর পর গোটা বিষয়টি সামনে এসেছে। তাই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হতে না হতে চীনের পাশাপাশি তুরস্কও পড়েছে ভারতের রোষানলে।
শুধু ভুয়ো খবর নয়, অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি জায়গার নাম বদলের চেষ্টা নিয়েও এদিন চীনকে তুলোধোনা করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করছি, ভারতের অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন জায়গার নামকরণের নিরর্থক ও অযৌক্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে চীন।’ এর পরেই বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘চীনের এই নামকরণের প্রচেষ্টাকে আমরা নির্দিষ্টভাবে খারিজ করছি। নামকরণ করলেই বাস্তবটা বদলাবে না। অরুণাচল ভারতেরই অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে।’
পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি হামলার পরেই প্রত্যাঘাতের পথে হাঁটে ভারত। শুরু হয় ‘অপারেশন সিন্দুর’। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একের পর এক জঙ্গি ঘাঁটি। ভারতের এই প্রত্যাঘাতকে বিশ্বের দরবারে কালিমালিপ্ত করতে লাগাতার ভুয়ো প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছিল চীনের দুই সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’ ও ‘জিনহুয়া’র বিরুদ্ধে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপারেশন নিয়ে ভুয়ো খবর প্রকাশ করায় ‘গ্লোবাল টাইমস’কে সতর্ক করে বেজিংয়ের ভারতীয় দূতাবাস। এক্স হ্যান্ডলে দূতাবাসের তরফে জানানো হয়, সমাজমাধ্যমে কোনও ধরনের ভুয়ো তথ্য প্রকাশ করার আগে খবরের সত্যতা ও সূত্র যেন যাচাই করে নেওয়া হয়। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বেশ কিছু পাকিস্তানপন্থী এক্স হ্যান্ডল থেকে ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে ভিত্তিহীন সমস্ত দাবি করা হচ্ছে।
শুধু লিখিত প্রতিবাদই নয়, কী ধরনের ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হয়েছে তার হাতেগরম প্রমাণও দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরোর (পিআইবি) ফ্যাক্টচেক শাখার তথ্যের সূত্র ধরে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন সিন্দুর’ চলাকালীন ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানোর দাবি করেছিল বেশ কিছু পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম। সেই সুরে সুর মেলায় সেদেশের একাধিক এক্স ব্যবহারকারীও। দাবির সপক্ষে তাঁরা ভেঙে পড়া বিমানের ছবিও পোস্ট করে। কিন্তু তা পরীক্ষা করে পিআইবি জানায়, ছবিগুলি পুরনো। এর মধ্যে কোনওটি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাজস্থানে ভারতীয় বায়ুসেনার মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার, কোনওটি আবার ২০২১ সালে পাঞ্জাবে মিগ-২১ যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার সময় তোলা। যদিও টানা কূটনৈতিক দৌত্যের পর রাতেই চীনা সংবাদমাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে খবর।