সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি; আজ ১ আগস্ট প্রকাশ হবে বিহারের স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (এসআইআর) খসড়া তালিকা। ইতিমধ্যে যা নিয়ে প্রতিবাদে সরব বিরোধীরা। এই বিতর্কের আবহে বৃহস্পতিবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকুমার বলেছেন, এটা খসড়া তালিকা। ফাইনাল নয়। খসড়া তালিকার ডিজিটাল এবং কাগুজে (ফিজিক্যাল) কপি রাজনৈতিক দলগুলিকে দেওয়া হবে। কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ গেলে তিনি নিজে তো বটেই, রাজনৈতিক দলগুলিও কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবে। কোনও নাম বাদ দিতে চাইলেও অভিযোগ জানানো যাবে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাম অন্তর্ভূক্ত বা বাদ দেওয়ার আবেদন করা যাবে। করা যাবে সংশোধনও।
কমিশনের এই বার্তার পরেও এসআইআর ইস্যুতে প্রতিবাদের ঢেউ বাড়াবে বলে ঠিক করেছে মোদি বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’। সেক্ষেত্রে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনাতেই সায় দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার সকালে সংসদ ভবনে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গের ঘরে বসে বিরোধীদের স্ট্র্যাটেজি বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী, জয়রাম রমেশ, রামগোপাল যাদব, টি আর বালু, সুপ্রিয়া সুলে, এন কে প্রেমচন্দ্রন, ডেরেক ও’ব্রায়েনের মতো বিরোধী নেতানেত্রীরা। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, আলোচনায় ঠিক হয়, এসআইআর ইস্যুতে কমিশন তথা কেন্দ্রকে জমি ছাড়লে চলবে না। সংসদে প্রতিবাদের ঝাঁঝ আরও বাড়াতে হবে। সেকথা শুনেই বৈঠকে ডেরেক প্রস্তাব দেন, শুধু সংসদে নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শমতো নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর ঘেরাও করা হোক। তবেই চাপে পড়বে কমিশন। বিজেপিও। এসআইআর ইস্যুকে রাস্তায় নিয়ে যেতে হবে।
সূত্রের খবর, তৃণমূলের এই প্রস্তাব মেনে নিয়েছে প্রায় সমস্ত বিরোধী দলই। সেইমতো ঠিক হয়েছে, আগামী সপ্তাহে অশোক রোডে নির্বাচন সদন অভিযান কর্মসূচি হবে। তারিখ এবং সময় এখনও চূড়ান্ত না হলেও আগামী বুধ বা বৃহস্পতিবার ওই কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’ শিবির সূত্রে জানা গিয়েছে।
একইসঙ্গে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যতদিন সংসদের অধিবেশন চলবে, ততদিন এসআইআর ইস্যুতে বিরোধীরা সোচ্চার হবে। সংসদের দুই কক্ষের পাশাপাশি বাইরেও চলবে বিক্ষোভ। সেইমতো বৃহস্পতিবার লোকসভায় এসআইআর ইস্যুতে আলোচনার দাবিতে মুলতুবি প্রস্তাবের নোটিস দেন কাকলি ঘোষদস্তিদার। যদিও তা গৃহীত হয়নি। তবে এদিনও সংসদ চত্বরে
বিক্ষোভ প্রদর্শনের সঙ্গে লোকসভা ও রাজ্যসভাতেও ওয়েলে নেমে তীব্র প্রতিবাদ জারি রেখেছে বিরোধীরা। ঠিক হয়েছে, আজ থেকে দেশের সব ভাষায় প্ল্যাকার্ড লিখে প্রতিবাদের ঝাঁঝ বাড়ানো হবে।