Bartaman Logo
১৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেসরকারি চাকরি: সংস্থার সঙ্গে সেক্টর বদলের নয়া সংস্কৃতিতে ভারত এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বকে পিছনে ফেলে

বেসরকারি চাকরিতে একবার কোনো সংস্থায় মাথা গলিয়ে, সেখান থেকেই অবসরগ্রহণের মানসিকতা এখন অনেকেরই থাকে না।

বেসরকারি চাকরি: সংস্থার সঙ্গে সেক্টর বদলের নয়া সংস্কৃতিতে  ভারত এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বকে পিছনে ফেলে
  • ১৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেসরকারি চাকরিতে একবার কোনো সংস্থায় মাথা গলিয়ে, সেখান থেকেই অবসরগ্রহণের মানসিকতা এখন অনেকেরই থাকে না। একাধিক সংস্থায় চাকরি করার সুবাদে যেমন অভিজ্ঞতার বহর বাড়ে, তেমনই বাড়িয়ে নেওয়া যায় মাসমাইনের অঙ্ক। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা বলছে, শুধু সংস্থা বদলেই আর আটকে নেই বেসরকারি চাকরিজীবীদের একটা বড়ো অংশ। তাঁরা চান, বিভিন্ন সংস্থায় নানা কাজের মধ্যে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে। অর্থাৎ সংস্থার সঙ্গে সেক্টর বদলও এখন চাকরির বাজারে নয়া সংস্কৃতি। এদিক থেকে বিশ্বকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে আমাদের দেশ। 

Advertisement

বেসরকারি চাকরি সংক্রান্ত একটি উপদেষ্টা সংস্থার সমীক্ষাটি জানাচ্ছে, এদেশের ৫৫ শতাংশ বেসরকারি চাকরিজীবী চান কাজের ক্ষেত্র বদল করতে। বিশ্বের কাজের বাজারে সেই হার ৩৮ শতাংশ। প্রশ্ন হল, যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট একটি ক্ষেত্র বা সেক্টরে কাজে যোগ দিয়েছেন এবং সেখানে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন, তিনি অন্য ক্ষেত্রে গিয়ে কি গোড়াতেই সুবিধা করে উঠতে পারবেন? বিশেষজ্ঞদের কথায়, কাজের ধরনটি একই রেখে, ক্ষেত্র বদল করা এখন জনপ্রিয় সংস্কৃতি। যেমন, কোনো ব্যক্তি হয়তো তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিপণন বিভাগে কাজ করেন। তিনি কোনো টেলিকম সংস্থায় এলেন সেই বিপণনের কাজেই। সংস্থার সঙ্গে যেমন সেক্টর বদল হল, তেমনই কাজের পরিধিরও কিছু পরিবর্তন হল। এতে কাজের পোর্টফোলিয়ো আরো ভালো হয় বলে মনে করেন তাঁরা। কর্মজীবনে এভাবেই একটির পর একটি সেক্টর বদল করায় অভ্যস্ত অনেকেই।
কর্মজীবনের সার কথা যে শ্রমের বিনিময়ে বেতন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে বেতনের পাশাপাশি কাজের জায়গা ঩নিয়ে অন্যান্য শর্তও কর্মীদের কাছে অন্যতম বড়ো বিষয়, জানাচ্ছে সমীক্ষাটি। ৮১ শতাংশ কর্মী সমীক্ষায় দাবি করেছেন, কোথায় তাঁরা কাজ করবেন, তার বাছাইয়ে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায় বেতনের অঙ্ক। তবে ৫৭ শতাংশের দাবি, বেতনের পাশাপাশি জীবন ও কাজের জগতের মধ্যে ভারসাম্য রাখাও তাঁদের কাছে অত্যন্ত জরুরি। যে সংস্থায় কাজ করলে পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগ বেশি এবং ব্যক্তিগত জীবনকে গুরুত্ব দেওয়া যায়, সেই কাজের জায়গাকে বেশি গুরুত্ব দেন তাঁরা। সমীক্ষাটি বলছে, কাজের জায়গায় আরো একটি বিষয়কে গুরুত্ব দেন কর্মীরা। তা হল, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক। যদি ভালো ‘বস’ পাওয়া যায়, তা কাজের মানসিকতাকে আরো বাড়িয়ে তোলে। এদেশে কর্মীদের ভালো ম্যানেজার বা বসের আওতায় থাকার কপাল ভালো, তা মানছে সমীক্ষাটি। কারণ, ৮৭ শতাংশ কর্মী স্বীকার করেছেন, তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। বিশ্বে এই সম্পর্ক ভালো মাত্র ৭২ শতাংশ কর্মীর। শুধু সম্পর্কই নয়, কর্মীরা যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, সেই সংস্থার সর্বময় কর্তার সিদ্ধান্তকে চোখ বুজে ভরসা করার হারও যথেষ্ট ভালো এদেশে। ৮৯ শতাংশ কর্মী দাবি করেছেন, তাঁরা তাঁদের ম্যানেজমেন্টের উপর সম্পূর্ণ আস্থাশীল। এই নির্ভরতার প্রশ্নে ভারতের থেকে পিছিয়ে বিশ্ব। সেখানে সার্বিকভাবে এই হার ৭২ শতাংশ। সহকর্মীদের বিশ্বাসের হারেও এগিয়ে ভারত। এখানকার কর্মীদের ৮৮ শতাংশ তাঁদের সহকর্মীদের বিশ্বাস করেন। বিশ্বে সেই হার ৭৬ শতাংশ। 
জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আরো ভালো জীবনযাপনের খিদে। স্বাচ্ছন্দ্যের তাগিদে আর একটু বেশি রোজগারের দিকে ঝুঁকতে চাইছেন বহু কর্মী। সমীক্ষাটি দাবি করেছে, এদেশের ৫৮ শতাংশ কর্মী তাঁদের মূল কাজের পাশাপাশি আরো একটি রোজগারের রাস্তা বেছে নিয়েছেন, অথবা তা নেওয়ার জন্য চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন। বিশ্ব মানচিত্রে সেই হার মাত্র ৪০ শতাংশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ