ওয়াশিংটন: শুল্কের ‘মহারাজ’ ভারত আসলে রাশিয়ার অর্থ তছরুপ চক্রের সহযোগী! ভারতকে বেনজির আক্রমণ করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য পরামর্শদাতা পিটার নাভারো। শুল্ক নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারির ভবিষ্যৎ ঘিরে এখনও প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। তার মধ্যেই নাভারো জানান, রাশিয়া থেকে তেল কেনা আসলে ভারতের জন্য একটা লাভজনক ব্যবসা। আগামী সপ্তাহেই ভারতের উপরে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসবে বলেও জানান তিনি। সমালোচনার জবাবে পাল্টা বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানান, মার্কিন আধিকারিকের এই সমালোচনা ও হুঁশিয়ারিতে ভারত সরকার কিছুটা ‘বিভ্রান্ত’। কারণ বিশ্বের জ্বালানি বাজারকে স্বাভাবিক করার জন্য রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য নয়াদিল্লিকে বলেছিল ওয়াশিংটনই।
হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নাভারো বলেন, ‘২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে হামলা করে রাশিয়া। তার আগে ভারত সেভাবে রাশিয়া থেকে তেল কিনত না। তারা নিজেদের প্রয়োজনের মাত্র এক শতাংশ তেল কিনত রাশিয়া থেকে। কিন্তু বর্তমানে সেটাই ৩৫ শতাংশ হয়েছে। আসলে ভারতের রুশ তেলের দরকার নেই। এটা একটা মুনাফা লোটার ছক। ক্রেমলিনের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে ভারত। এটাই বাস্তব।’ জবাব দিয়েছে ভারতও। মস্কো সফরের মধ্যেই বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর ট্রাম্পের বাণিজ্য পরামর্শদাতার এহেন মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে রাশিয়া থেকে তেল কেনা থেকে বিশ্বের জ্বালানির বাজার স্বাভাবিক রাখার জন্য আমাদেরকেই বলেছিল আমেরিকা।’
মস্কোয় অবস্থিত কাসাটকিন কনসাল্টিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া যত পরিমাণ তেল রপ্তানি করে, তার ৩৭ শতাংশই কেনে ভারত। নাভারো জানান, সস্তায় সেই তেল কিনে ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার রাজারে বিক্রি করছে ভারত। ফুলেফেঁপে উঠছে তারা। এরপরেই রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য মোদিকে নিশানা করেন নাভারো। বলেন, ‘মোদি একজন অসাধারণ নেতা। কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের ভূমিকা কী, সেটাও দেখা উচিত। ভারত যা করছে, তাতে শান্তি আসছে না। বরং তারা যুদ্ধে মদত দিচ্ছে।’ সেখানেই না থেমে তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে ব্যবসায় আমেরিকার উপরে কী প্রভাব পড়ছে? ওরা শুল্কের মহারাজা। এর ফলে মার্কিন নাগরিক ও আমাদের ব্যবসা ধাক্কা খাচ্ছে। আর ভারত সেই টাকা দিয়ে রাশিয়া থেকে তেল কিনছে। তেল বিক্রির টাকা দিয়ে রাশিয়া অস্ত্র বানাচ্ছে ও ইউক্রেনের বাসিন্দাদের হত্যা করছে। এই হত্যালীলায় ভারতের অংশ হওয়া উচিত নয়।’ পাশাপাশি, চীন-ভারত সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনার সুর ছিল নাভারোর গলায়। যদিও তার পরেই ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে টুইট করেন ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং।