নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গ্রাহক সুবিধা আর দেখবে না এনডিএ শাসিত অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। দিল্লির সরকার আগেই বন্ধ করেছে। এবার চন্দ্রবাবু নাইডুর সরকার। গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে দেওয়া হবে না ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’র ফ্রি রেশন। আগামী ১ জুন থেকে বন্ধ হচ্ছে ‘দুয়ারে রেশন।’ গত ২০ মে অন্ধ্রপ্রদেশ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঠিক হয়েছে, দিব্যাঙ্গ এবং ৬৫ ঊর্ধ্ব নাগরিক ছাড়া কোনও রেশন গ্রাহকের জন্যই আর দুয়ারে রেশন চালু থাকবে না। তাদের প্রাপ্য চাল-গম নিতে হবে নির্দিষ্ট রেশন দোকান থেকেই। রাজ্য মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত দিল্লিতে খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রককে জানিয়ে দিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার।
বন্ধ করার কারণ হিসেবে বাড়তি খরচ, খাদ্যশস্য লিকেজ, সময়মতো হিসেব না মেলানোর সমস্যা, রেশন দেওয়ার গাড়ি (মোবাইল ডিসপেনসিং ইউনিট) গুলিকে মাসের অর্ধেক সময় বসিয়ে রাখা, তার সংরক্ষণ খরচ ইত্যাদির কথা বলা হয়েছে। ২৩ মে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের জারি করা ছ’ পাতার নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এভাবে গ্রাহকের বাড়ির কাছে রেশন পৌঁছতে বছরে বাড়তি খরচ ১ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। অথচ বিষয়টি সেভাবে কাজেও দিচ্ছে না। খাদ্যশস্যের হিসেব সঙ্গে সঙ্গে মেলানো যাচ্ছে না। পাচার (লিকেজ)ও হচ্ছে। অথচ রেশন দোকান থেকে সরকারি বণ্টন করলে এ সবই এড়ানো সম্ভব।
সেই হিসেবে এখনও পর্যন্ত ব্যতিক্রমী বাংলা। একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই থাকছে দুয়ারে রেশন। যদিও এর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বছরে বাড়তি ৪০৮ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। স্রেফ জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের ৩ লক্ষ ৩০ হাজার ৮৮৫মেট্রিক টন চাল-গম বিতরণ করতেই এই খরচ। বাকি রাজ্য খাদ্যসাথী যোজনা যুক্ত হলে খরচের অঙ্ক বাড়বে। অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, ‘একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারই দুয়ারে রেশন চালু রেখে গ্রাহক সুবিধা দেখছেন।’ রেশন দোকানদাররা এখন চাল-গম বিতরণ করে কুইন্টাল প্রতি ৯০ টাকা কমিশন পান। দোকানদারদের এই কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ তথা রেশন দোকানদের সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা সৌগত রায়। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে রবিবার একটি চিঠি দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, অবিলম্বে কমিশন কুইন্টাল প্রতি ২০০ টাকা করা হোক।