Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গুহনিয়োগী বাড়ির পুজোয় অষ্টমী ও নবমীতে মায়ের ভোগে থাকে ১২ রকমের মাছের পদ, একচালার প্রতিমা, মায়ের গায়ের রং অতসী ফুলের মতো

গুহনিয়োগী বাড়ির পুজোর সূচনা হয়েছিল অধুনা বাংলাদেশের নেত্রকোনায়।

গুহনিয়োগী বাড়ির পুজোয় অষ্টমী ও নবমীতে মায়ের ভোগে থাকে ১২ রকমের মাছের পদ, একচালার প্রতিমা, মায়ের গায়ের রং অতসী ফুলের মতো
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: গুহনিয়োগী বাড়ির পুজোর সূচনা হয়েছিল অধুনা বাংলাদেশের নেত্রকোনায়। কিন্তু পরবর্তীতে গুহনিয়োগী পরিবারের কিছু সদস্য কোচবিহারে চলে আসেন। বাংলাদেশের ২০০ বছরের পুরনো সেই পারিবারিক পুজো সেই সময় এখানে তাঁরা চালু করতে পারেননি। কোচবিহারে পুজো চালু না করলেও, ১৩৫ বছর ধরে মদনমোহন মন্দিরে তাঁরা পাঁঠা উৎসর্গ করে আসছিলেন। প্রায় ২০ বছর আগে রাসমেলা ময়দান সংলগ্ন গুহনিয়োগী বাড়িতে ফের তাঁরা পুজো শুরু করেন। যা সেই বাংলাদেশের পুজোর রীতি বহন করে আসছে। মায়ের গায়ের রং এখানে অতসী  ফুলের রঙের। সপ্তমীতে নিরামিশ ও অষ্টমী-নবমীতে ১২ রকমের মাছ দিয়ে দিয়ে মাকে ভোগ নিবেদন করা হয়। এছাড়াও রয়েছে পাঁঠা, পায়রা বলির প্রথা। পুজো হয় বাড়ির স্থায়ী মন্দিরে। 

Advertisement

গুহনিয়োগী পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সদস্য শান্তনু গুহনিয়োগী বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষ বহু বছর আগে বাংলাদেশে এই পুজোর প্রচলন করেছিলেন। কিন্তু অনেক বছর পুজো বন্ধ ছিল। প্রায় ২০ বছর ধরে আমরা এখানে সেই পুজো আবার চালু করেছি। আগে পুজো করতে না পারার কারণে মদনমোহন মন্দিরে পাঁঠা বলি দেওয়া হতো। আমাদের পুজোয় অষ্টমী ও নবমীতে ১২ রকমের মাছ ভোগ দেওয়া হয়। অষ্টমীতে কুমারী পুজো হয়। আমাদের প্রতিমা একচালার। মায়ের গায়ের রং অতসী ফুলের রঙের। 
গুহনিয়োগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, সপ্তমীতে মাকে নিরামিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। অষ্টমী ও সন্ধিপুজো মিলিয়ে মোট ৫৬ রকমের ভোগ নিবেদন করা হয়। পায়েস, শাক, ডাল, শুক্তো, ভাজা প্রভৃতি নিবেদন করা হয়। অষ্টমী-নবমীতে বোরোলি, রুই, আর, কই, বোয়াল, ইলিশ প্রভৃতি মাছ বিশেষভাবে রান্না করে মাকে উৎসর্গ করা হয়। প্রতিটি রান্নার আলাদা পদ্ধতি রয়েছে। বছরের অন্য সময় সেভাবে মাছ রান্না করা হয় না। দশমীতে অপরাজিতা পুজো হয়। সেদিন দুপুরে ইলিশ মাছ পুজো ও খাওয়া হয়। কিন্তু রাতে কেউ অন্ন গ্রহণ করেন না। দশমীর দিন থেকে শুরু করে সরস্বতী পুজো পর্যন্ত ইলিশ মাছ খান না কেউ। সরস্বতী পুজো দিয়ে জোড়া ইলিশ মাছ পুজো উৎসর্গ করে তারপর আবার খাওয়া হয়। অষ্টমীর দিন পাঁঠা, পায়রা ও চাল কুমড়ো বলি দেওয়া হয়। অত্যন্ত ভক্তিভরে পারিবারিক আবহে এই পুজো হয়ে আসছে। প্রাচীন ঐতিহ্য বজায় রেখে এখানে আজও পুজো হয়ে আসছে।  ফাইল চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ