


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সাক্ষাত্ পরবর্তীতে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের আরও একটি বিতর্কিত মন্তব্য। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে ‘তৃণমূল দরদী’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি। এবার কংগ্রেস কিন্তু ছেড়ে কথা বলেনি। পালটা প্রত্যাঘাতে তাদের কড়া বার্তা, ‘নিজের সম্মান রক্ষার চেষ্টা করুন।’ এমত অবস্থায় কি বাম-কংগ্রেস জোটের দরজা একেবারেই বন্ধ হল? রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
বৃহস্পতিবার হুগলির পাণ্ডুয়ায় সেলিম বলেন, ‘অধীর চৌধুরী সভাপতি থাকাকালীন বামপন্থীদের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছিল। এখন শুভঙ্কর সরকারের তৃণমূলের প্রতি বেশি দরদ আছে বলে মনে হয়। তিনি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, এআইসিসির উপর নির্ভর করেন। বামফ্রন্ট দীর্ঘদিন অপেক্ষা করবে না।’ প্রশ্ন উঠছে, একথা বলায় কি জোটের দরজা বন্ধ? সিপিএমের এক রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বলছিলেন, ‘তাই তো দাঁড়াচ্ছে।’ শুক্রবার সিপিএমের আর এক রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কল্লোল মজুমদার বলেন, ‘জোটের দরজা একেবারে বন্ধ হয়নি। ওরা জতীয় দল বলে ১০০টা সিট চাইলে হবে না। ৪৫টা পর্যন্ত একতরফা ছাড়তে পারি। শুভঙ্করবাবু প্রথমে বলেছেন, সব সিটে প্রার্থী দেব। তারপর বলেছেন, অবান্তর কথা বলবেন না। তার প্রতিক্রিয়া তো হবেই।’
এদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে প্রথম আমরা সংবিধান পাঠ কর্মসূচি নিয়েছিলাম। সংবিধান প্রত্যেকের মত প্রকাশের অধিকার দেয়। কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি তাঁর নিজের মত প্রকাশ করতেই পারেন। একজন মানুষের দায়িত্ব, কর্তব্য, অধিকার, অনধিকার জানলে, তিনি অবিবেচকের মতো কথা বলবেন না। বাংলার মানুষ সব দেখছেন। আর রাজনীতি হল সম্ভাবনাময় শিল্প।’ কংগ্রেসের মুখপাত্র অশোক ভট্টাচার্য (রাজা) কড়া ভাষায় সেলিমকে উত্তর দিয়েছেন, ‘মহম্মদ সেলিমের ওই মন্তব্য বালখিল্য। নিজের সম্মান নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করুন। আমরা এআইসিসি নাকি আলিমুদ্দিনের কথায় চলব? আপনি বিজেপির টাকায় পোষিত হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ২০২১ সালের জনসভায় অধীর চৌধুরীর মাইক কেড়ে পীরজাদার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেদিন কংগ্রেসকে আপনিই চূড়ান্ত অপমান করেছিলেন।’