শান্তনু দত্ত: স্টারডম। এই শব্দের উপর ভরসা করে লক্ষ্মীলাভ হচ্ছে কি? সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রশ্নই বারবার উঠছে বলিউডে। কারণ বক্স অফিসের লাভ লোকসানের অঙ্ক। আগে সুপারস্টারদের নাম দেখে টিকিট বিক্রি হতো। এ কথা সত্যি। তবে সেই যুগ পাল্টেছে। বদল এসেছে দর্শকের রুচিতেও। আগে দর্শককে যে ধরনের চিত্রনাট্য বা ট্রিটমেন্টে আড়াই ঘণ্টা প্রেক্ষাগৃহে বসিয়ে রাখা যেত, এখন আর তা যায় না। গল্পই ইন্ডাস্ট্রির মূল হিরো। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, দক্ষিণী ছবির ধারাবাহিক সাফল্যের নেপথ্যেও রয়েছে এই একই কারণ।
২০২৪ সালে ঈদের মরশুমে সলমন খান ‘সিকান্দর’ ছবির ঘোষণা করেছিলেন। সেই ছবি মুক্তি পেয়েছে এ বছর। প্রচারের কোনও খামতি ছিল না। জমজমাট সংলাপ, অ্যাকশন, ভাইজানের পাওয়ারফুল অভিনয়— সবমিলিয়ে ঈদের মরশুমে দারুণ উপহার। তা সত্ত্বেও আশাপ্রদ ফল পেতে ব্যর্থ ‘সিকান্দর’। কারণ খুঁজতে বসলে বহু বিষয়ে আলোচনা করা যায়। তবে যে বিষয় নিয়ে বলিউডের সবচেয়ে বেশি চিন্তিত, তা হল স্টারডম। একমাত্র সলমন খানের পক্ষে হয়তো প্রথম কয়েকদিন হল ভরানো এখনও সম্ভব। তারপর? সেই কয়েকদিনের ব্যবসা দিয়ে কি ছবির সাফল্য আসবে? তাই হয়তো বারবার নতুন মুখের খোঁজ করছে বলিউড। সম্প্রতি হংসল মেহেতা থেকে শুরু করে বিবেক অগ্নিহোত্রী বা রিচা চাড্ডা— সকলের গলায় একই সুর শোনা গিয়েছে। নতুন মুখ। লাভের অঙ্কের তরী ভাসাতে এখন এটাই একমাত্র বাজি।
এর কয়েকটা কারণও রয়েছে। বলিউডের ‘তিন খান’ এখন ৬০-এর গণ্ডিতে। আমির গত মার্চে পা রেখেছেন ৬০ বছরে। শাহরুখ ও সলমন যথাক্রমে নভেম্বর ও ডিসেম্বরে সেই বয়সের গণ্ডি পেরবেন। বক্স অফিসের রিপোর্ট দেখলে শাহরুখ বাদে বাকি দু’জনের ভরাডুবি অব্যাহত। আমির খান বাজি ধরেছেন তাঁর পরবর্তী ছবি ‘সিতারে জমিন পার’-এর উপর। প্রযোজক হিসেবেও ছাপ রেখেছেন তিনি। অন্যদিকে, সলমনের ট্রেন্ড দেখে তাঁকে কাস্ট করতে অনেকেই পিছপা হচ্ছেন এই মুহূর্তে। কয়েকদিন আগেই শোনা গিয়েছিল, অ্যাটলি নাকি সলমনের সঙ্গে একটি কাজ করবেন। তবে প্রযোজক পিছিয়ে আসায় সেই ছবি হচ্ছে অল্লু অর্জুনকে নিয়ে।
২০২৫-এর এপ্রিল মাস চলছে। অর্থাৎ প্রায় চার মাস অতিক্রান্ত। এখনও পর্যন্ত বলিউডে উল্লেখযোগ্য ব্যবসা করেছে হাতে গোনা কয়েকটা ছবি। তার মধ্যে প্রথমে বলতে হয় ‘ছাভা’র কথা। ভিকি কৌশল এই সময়ের অন্যতম স্টার। তাঁর বক্স অফিসের সাফল্য দেখলে সেই কথায় মান্যতা দেবেন সকলেই।
আবার রণবীর কাপুর, রণবীর সিং, রাজকুমার রাও, কার্তিক আরিয়ানের মতো অভিনেতারাও দর্শক টেনেছেন তাঁদের শেষ ছবিগুলিতে। ফলে বড় ছবিতে তাঁদের কাস্ট করতে চাইছেন প্রযোজকরা।
এদিকে, ভালো গল্প হলে নতুন মুখের উপর ভরসা করেও প্রেক্ষাগৃহে দর্শক সমাগম হচ্ছে। ‘মুঞ্জ্য’, ‘টুয়েলভথ ফেল’, ‘স্ত্রী ২’, ‘ভুল ভুলাইয়া ৩’-এর ছবিতে গল্পের জোর যেমন ছিল, তেমনই নজর কেড়েছে নতুন মুখ। ফলে এই দুই অঙ্কে জোর দেওয়াই এখন একমাত্র উপায়। সেই পথেই লক্ষ্মীলাভের আশায় নির্মাতারা।