নয়াদিল্লি: দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মার বাংলো থেকে হিসেব বহির্ভূত ১৫ কোটি টাকা উদ্ধারের অভিযোগ ঘিরে শোরগোল দেশজুড়ে। তারই মধ্যে বিস্ফোরক আরও তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, ২০১৮ সালে সিবিআইয়ের দায়ের করা একটি এফআইআরে নাম ছিল ওই বিচারপতির। একটি চিনি কারখানার বিরুদ্ধে ওঠা ব্যাঙ্ক প্রতারণার অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ওই মামলা করেছিল। সিবিআই এফআইআর করেছিল সিমভাওলি সুগার মিল, তার ডিরেক্টর সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে। সংস্থার নন-এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর পদে থাকার কারণে সেই তালিকাতেই নাম ছিল যশোবন্ত ভার্মারও। টাকা উদ্ধারের ইস্যুতে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার কাছে জমা দিয়েছেন বলে খবর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করেছেন বিচারপতি উপাধ্যায়। গতকাল তিনি তদন্তের সেই রিপোর্ট পেশ করেছেন। এবার সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ওরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক অব কমার্সের (ওবিসি) অভিযোগের ভিত্তিতে চিনি কারখানার বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির ইস্যুতে এফআইআর দায়ের করেছিল সিবিআই। ব্যাঙ্কের তরফে অভিযোগ করা হয়, ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে তাদের হাপুর শাখার তরফে ৫ হাজার ৭৬২ জন কৃষককে বীজ ও সার কিনতে সাহয্যের জন্য মোট ১৪৮.৫৯ কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ঋণের এই টাকা প্রথমে কোনও তৃতীয় পক্ষের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে। সেখান থেকে টাকা যাবে কৃষকদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে। কৃষকদের তরফে ঋণ পরিশোধের গ্যারান্টার হয় সিমভাওলি সুগার মিল। পরে অভিযোগ ওঠে, ওই চিনি কারখানার তরফে ভুয়ো কেওয়াইসি নথি পেশ করে তহবিলের টাকা নয়ছয় করা হয়। ২০১৫ সালে ওবিসি ঋণ জালিয়াতির কথা ঘোষণা করে। অভিযুক্ত চিনি কারখানার তৎকালীন নন-এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে এফআইআরে নাম ওঠে বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মারও। এফআইআরে নাম ছিল আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির। তিনি সংস্থার ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংয়ের জামাই গুরপাল সিং। সিবিআইয়ের এফআইআরের ভিত্তিতে পরে তদন্তের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও (ইডি)। পরে জানা যায়, ওরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক অব কমার্সের (ওবিসি) পাশাপাশি ঋণ জালিয়াতি হয়েছে আরও বহু ব্যাঙ্কের সঙ্গে। সামগ্রিকভাবে এই প্রতারণার পরিমাণ ৯০০ কোটি টাকা। তবে অভিযোগ দায়েরের পথে হেঁটেছে শুধু ওবিসি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এলাহাবাদ হাইকোর্ট সিবিআইকে নতুন করে তদন্ত করার নির্দেশ দেয়। হাইকোর্ট বলে, ঋণ মঞ্জুরের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা আরবিআই গাইডলাইন মেনে চলেননি। হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন করে তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করে। কিন্তু ওই বছরই মার্চ মাসে এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি করে সুপ্রিম কোর্ট।



