Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সেক্টর ফাইভে বেআইনি কল সেন্টার, উদ্ধার ৬৮ লক্ষ টাকা

সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে একটি বেআইনি কল সেন্টার চক্রের কিনারা করে প্রায় ৬৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার করল পুলিস। সেই সঙ্গে এই চক্রের পান্ডা সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সেক্টর ফাইভে বেআইনি কল সেন্টার, উদ্ধার ৬৮ লক্ষ টাকা
  • ২৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে একটি বেআইনি কল সেন্টার চক্রের কিনারা করে প্রায় ৬৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার করল পুলিস। সেই সঙ্গে এই চক্রের পান্ডা সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইফোন সহ প্রচুর মোবাইল ফোন, একাধিক কম্পিউটার, টাকা গোনার মেশিন এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রযুক্তিগত সহায়তার নামে এরা মূলত মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করত বলে অভিযোগ। পুলিস জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কতজন যুক্ত রয়েছে, তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

Advertisement

বুধবার বিধাননগরের গোয়েন্দা প্রধান সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ বলেন, বিধাননগরের গোয়েন্দা বিভাগ, সাইবার ক্রাইম থানা এবং ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার পক্ষ থেকে সেক্টর ফাইভের একটি কল সেন্টারে হানা দেওয়া হয়। রীতিমতো অফিস খুলে ওই বেআইনি কল সেন্টারটি চালানো হচ্ছিল। তাদের কম্পিউটার থেকে বেশকিছু তথ্য মেলে। তারপর আমরা দেবেন্দর সিং ও সাধু নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করি। তাকে জেরা করে জানতে পারছি, এই কল সেন্টারের মূল পান্ডা হল অবিনাশ জয়সওয়াল। চিনার পার্কে তার ফ্ল্যাট রয়েছে। সেখানে হানা দিয়ে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করি। তার ফ্ল্যাট থেকে প্রথমে ৯ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা নগদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। সেই সঙ্গে একটি আইফোন সহ তিনটি ফোন পাওয়া যায়। তারপর তাকে নিয়ে সেক্টর ফাইভের ওই কল সেন্টারে তল্লাশি চালানো হয়। একটি বহুতলের ১০ তলায় ওই কল সেন্টারের অফিস খোলা হয়েছিল।
সেখান থেকে আমরা আরও ৫৮ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা উদ্ধার করি। ওই টাকা অফিসের মধ্যে লুকানো অবস্থায় ছিল। মোট ৬৭ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা উদ্ধার হয়। সেই সঙ্গে ১৮টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৪টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন। বাকি আইফোন ও গুগল পিক্সেল ফোন রয়েছে। ৬টি ডেক্সটপ কম্পিউটার এবং ২টি নোটবুক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একটি টাকা গোনার মেশিনও পাওয়া গিয়েছে। এই কল সেন্টারটি ২-৩ মাস ধরে চলছিল। গোয়েন্দা প্রধান বলেন, টেকনিক্যাল সাপোর্ট অর্থাৎ প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার জন্য মূলত মার্কিন নাগরিকদেরই ফোন করে প্রতারণা করা হতো। প্রথমে কোনও একটি কাজ করে দেওয়া হতো। তারপর বলা হতো, বাকি কাজের জন্য টাকা লাগবে। সেই টাকা বিট কয়েনের মাধ্যমে এবং গিফট কার্ডের মাধ্যমে তারা নিত। 
অন্যদিকে, ২৩ লক্ষ টাকা সাইবার প্রতারণার অভিযোগে বিধাননগর সাইবার থানা তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম শুভাশিস দাস, অঙ্কিত চৌধুরী ও গোবিন্দ সরকার। ধৃতদের বুধবার বিধাননগর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের জন্য তাদের পুলিস হেফাজত চাওয়া হয়েছিল। আদালত সাতদিনের পুলিস হেফাজত মঞ্জুর করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ