Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘বিজেপি জিতলেই ধর্মে ধর্মের আঘাত’, বাঁকুড়ায় গেরুয়া শিবিরকে আক্রমণ অভিষেকের

‘বিজেপি জিতলে ধর্মে ধর্মের আঘাত, আর তৃণমূল করলে দু’মুঠো ভাত।’ শনিবার বাঁকুড়ার শালতোড়ার জনসভা থেকে গেরুয়া শিবিরকে এই ভাষাতেই আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দুপুরে শালতোড়া কলেজ ময়দানে অভিষেক জনসভা করেন।

‘বিজেপি জিতলেই ধর্মে ধর্মের আঘাত’, বাঁকুড়ায় গেরুয়া শিবিরকে আক্রমণ অভিষেকের
  • ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, শালতোড়া(বাঁকুড়া): ‘বিজেপি জিতলে ধর্মে ধর্মের আঘাত, আর তৃণমূল করলে দু’মুঠো ভাত।’ শনিবার বাঁকুড়ার শালতোড়ার জনসভা থেকে গেরুয়া শিবিরকে এই ভাষাতেই আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দুপুরে শালতোড়া কলেজ ময়দানে অভিষেক জনসভা করেন। ভিড়ে ঠাসা সভা থেকে তৃণমূল সাংসদ বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল জিতলে দুয়ারে রেশন আর বিজেপি জিতলে শুধু ভাষণ। বিজেপি জিতলে ধর্মে ধর্মের আঘাত আর তৃণমূল করলে দু’মুঠো ভাত। বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা আর খাল কেটে কুমির ডেকে আনা একই ব্যাপার। ছ’মাস আগে বিজেপির এক রাজ্য নেতা ক্ষমতায় এসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদের ভোটের দিন খাঁচায় বন্দি করে রাখার নিদানও দেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিতে রাজ্য সরকারের বছরে ২৭হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। ওই প্রকল্প নিয়ে কথা বললে বিজেপিকে বাংলার মা-বোনেরা সমুচিত জবাব দেবে।’ 

Advertisement

বাম-বিজেপিকে এক আসনে বসিয়ে অভিষেকের কটাক্ষ, ‘সিপিএমের জল্লাদরা জার্সি বদল করে বিজেপিতে গিয়ে বড় বড় ভাষণ দিচ্ছে। কোনও ভদ্রলোক বিজেপি করে না। নেশাখোররা ওই দলে নাম লেখায়। রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আছে বলেই কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব বাংলায় ডেলি প্যাসেঞ্জারি করতে পারছে। সিপিএম ক্ষমতায় থাকলে বিজেপি নেতৃত্বকে বোমা-বন্দুকের সামনে মাথা নত করতে হত।’ এসআইআর প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন বাংলায় ঘুষপেটিয়া খুঁজে বেড়াচ্ছে। অমর্ত্য সেন, দেবকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাঁরা কি ঘুষপেটিয়া? বিজেপি সবার কাছে কাগজ চাইছে। রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ জীবিত থাকলে তাঁদেরও নোটিস পাঠানো হতো। সেই নোটবাতিলের সময় থেকে বিজেপি সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড় করাচ্ছে। যখন ইচ্ছে ফতোয়া জারি করছে। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত এসআইআরের কারণে আমরা ৭০টি তরতাজা প্রাণকে হারিয়েছি। বিজেপি নেতারা কাগজ চাইলে ওদের জন্ম শংসাপত্র দেখাতে বলবেন।’ এরপরই উপস্থিত জনতার উদ্দেশে অভিষেক বলেন, ‘গত বিধানসভা ভোটে শালতোড়া, ছাতনা সহ বাঁকুড়ার আটটি আসনে বিজেপিকে আশা নিয়ে মানুষ জিতিয়েছিল। কিন্তু জেতানোর পর বিজেপি কী, তা তারা বুঝতে পেরেছে।’ এই সূত্রেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ার ১২টি আসনেই বিজেপিকে ‘ছক্কা মেরে বাউন্ডারি লাইনের বাইরে ফেলে দেওয়া হবে’ বলে দাবি করেন তিনি। আরও বলেন, ‘গত লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ায় সুভাষ সরকারকে প্রাক্তন করেছেন। আগামী দিনে জেলার প্রতিটি বুথে বিজেপিকে প্রাক্তন করতে হবে।’ 
বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকার বলেন, ‘নাম পরিবর্তন হওয়ায় আমিও এসআইআরের শুনানির নোটিস পেয়েছি। তা নিয়ে কি হল্লা করেছি? রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দও নোটিস পেলে দেশের আইন মোতাবেক কাজ করতেন। তাঁরা উল্টে গোলযোগ পাকানোর জন্য তৃণমূল নেতাদেরই ধমক দিতেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকেই বাঁকুড়া তথা রাজ্যবাসী প্রাক্তন করবে। বিপদ ঘণ্টা শুনতে পেয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রলাপ বকছেন।’ ছবি: ভৈরব দাস 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ