


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোনও একপক্ষের হয়ে অন্যপক্ষের সঙ্গে সংঘাতে যাব না। বৃহস্পতিবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেই এই তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন অধ্যাপক আশুতোষ ঘোষ। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী উপাচার্যের পদ ফাঁকাই ছিল এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। সেটাই পূরণ হল এতদিনে। তারপরেই নাম না করে পূর্বসূরির প্রসঙ্গে অধ্যাপক ঘোষের এই উক্তিতে রীতিমতো শোরগোল পড়েছে শিক্ষামহলে।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক শান্তা দত্ত দে। তাঁকে একতরফা নিয়োগ করেছিলেন রাজ্যপাল। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের দিন পরীক্ষা ফেলে এবং শাসকপক্ষের শত অনুরোধ বা প্রকারান্তরে চাপ সত্ত্বেও সেই দিন পরিবর্তন না করে সংবাদের শিরোনামে এসেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, একেবারে নাম করে মুখ্যমন্ত্রী এবং শাসকদলের সমালোচনা করতেন তিনি। এতে তিনি যেমন শাসকদলের চক্ষুশূল ছিলেন, তেমনই বিরোধীদের নয়নের মণি হয়ে ওঠেন। শক্ত মেরুদণ্ড, সোজা মেরুদণ্ড ইত্যাদি নানা বিশেষণে তাঁকে ভূষিত করতে থাকে বিরোধীরা। এদিন সেই প্রসঙ্গ তুলেই প্রশ্ন করা হয়েছিল আশুতোষবাবুকে। তিনি বলেন, ‘আমার মেরুদণ্ড সোজা না বাঁকা, আমি বলতে পারব না। তবে, এক পক্ষের হয়ে অন্য পক্ষের সঙ্গে সংঘাতে জড়াব না।’ ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যপালের মাধ্যমে নিযুক্ত হয়েছিলেন বলেই একতরফা সরকারের বিরোধিতায় নেমেছিলেন আগের উপাচার্য। তবে, তাঁর আমলে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন র্যাঙ্কিংয়ে ক্রমশই নেমেছে।
মানোন্নয়ন নিয়ে বেশ চিন্তিত আশুতোষবাবু। তিনি বলেন, ‘শিক্ষক-অধ্যাপকের পদ প্রায় ৫০ শতাংশ ফাঁকা থেকে যাওয়ায় মানের অবনমন ঘটছে।’ সূত্রের খবর, বর্তমানে শিক্ষকদের প্রায় ৫৯ শতাংশ পদই ফাঁকা। কর্মী আধিকারিকের ক্ষেত্রে সেই হার প্রায় ৭০ শতাংশ বলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলের দাবি। এর আগে ২০১৬-১৭ সালে অস্থায়ী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন আশুতোষবাবু। তখন গবেষণা ক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বভারতীয় র্যাঙ্কিং ছিল ১২। এখন তা ৩৯-এ নেমে এসেছে। ন্যাক পরিদর্শনও দীর্ঘদিন হয়নি। নয়া উপাচার্য শূন্যপদ পূরণ, ন্যাক পরিদর্শন চালু, হস্টেল সংরক্ষণ এবং নয়া কোর্স শুরুর মাধ্যমে মানোন্নয়ন এবং ছাত্রছাত্রীদের আরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়মুখী করার আশ্বাস দিয়েছেন।