কেমন চলছে ‘আনন্দী’র সফর? জানালেন অভিনেত্রী অন্বেষা হাজরা।
কেমন চলছে ‘আনন্দী’র সফর? জানালেন অভিনেত্রী অন্বেষা হাজরা।
‘আনন্দী’। এটাই এখন অভিনেত্রী অন্বেষা হাজরার একমাত্র পরিচয়। এক বছরের বেশি সময় ধরে জি বাংলার পর্দায় চলছে এই ধারাবাহিক। সদ্য ৪০০ এপিসোড পেরিয়ে গেল। শ্যুটিংয়ের অবসরে স্টুডিওতে আড্ডার ফাঁকে অন্বেষা বললেন, ‘৪০০ এপিসোড সেলিব্রেট করা মানে আমরা যে একসঙ্গে এতদিন রয়েছি, সেটাই একে অপরকে জানান দেওয়া।’ এক একটা বাঁক পেরিয়ে যাওয়া মানে দায়িত্বও কি বেড়ে যায়? হেসে অভিনেত্রীর উত্তর, ‘দায়িত্ব প্রতিদিনের। যেদিন থেকে সিলেক্ট করা হয়, লুক অ্যাপ্রুভ হয়, সেদিন থেকে নিজেকে বোঝানো, এবার থেকে এই চরিত্রের দায়িত্ব আমার। যতক্ষণ না প্যাকআপ বলবে, ততক্ষণ এই দায়িত্ব থাকবে।’
মানসী সিনহার পরিচালনায় ‘পাঁচ নম্বর স্বপ্নময় লেন’ ছবিতে কাজ করেছেন অন্বেষা। বড়পর্দায় তাঁর কাজ প্রশংসিত। সেখানেও টেলিভিশনের প্রত্যেক দিনের অভিনয় চর্চার সুফল কাজে লাগাতে পেরেছেন বলে জানালেন। তাঁর কথায়, ‘আমার দ্বিতীয় প্রজেক্ট ছিল ‘বৃদ্ধাশ্রম’, ছ’মাসের মেগা। পরিচালক ছিলেন দেবীদাস ভট্টাচার্য। আমার মনে আছে, দেবী স্যর বলতেন, মেগা করো। মেগা প্রতিদিনের চর্চা। মানুষ অভ্যেসের দাস। সেই অভ্যেস আমারও হয়ে গিয়েছে। এত মন দিয়ে যদি পড়াশোনা করতাম (হাসি)! শুধুমাত্র নিজের পার্ট পড়ে গেলে হবে না। সকলেরটা মাথায় রাখতে হবে। কারণ একজনের সংলাপের উপর তো আমার রিঅ্যাকশন। এই অভ্যেসটা সিনেমা করতে গিয়ে আমার খুব কাজে লেগেছে। অনেক দিন ধরে চিত্রনাট্য ছিল আমার কাছে। সড়গড় হয়ে গিয়েছিলাম। ‘সময় পাইনি’, এটা আমি সাধারণত বলি না। আর ওখানে বলার কোনো জায়গাও ছিল না।’
‘আনন্দী’ শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত অন্বেষার কাছে নতুন কোনও অফার নেই। তা নিয়ে আক্ষেপও নেই তাঁর। স্পষ্ট বললেন, ‘মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করলে প্রতিদিন সিনে থাকতে হয়। তাহলে অন্য কোথাও সময় কীভাবে দেব? আর দিলেও এখানে কম্প্রোমাইজ করতে হবে। দেড় বছরে ‘আনন্দী’র শ্যুটিংয়ের বাইরে মাত্র একটি জায়গায় গিয়েছি।’
দিনভর ব্যস্ততায় প্রতিদিন রাতে বাবাকে ফোন করে গল্প করা অন্বেষার অভ্যেস। বাবা তাঁর সব কিছুর আশ্রয়, মনখারাপের বন্ধু। অন্বেষা বললেন, ‘আমার সব কথা বাবাকে বলে তৃপ্তি পাই। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে কখনো অস্বস্তি বোধ করিনি।’ জীবনে কি নতুন মানুষ এলেন? হেসে অন্বেষার জবাব, ‘আমি সোজা বিয়ে করে নেব। যখন বিয়ে করব, তখন জানাব। দেখুন, প্রেম করা যাবে। কিন্তু করলে কতটা বলা যাবে, সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে (হাসি)। আসলে ‘বিয়ে’ প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আমার খুব শ্রদ্ধা। যাকে বিয়ে করব, সে যেই হোক, তার সঙ্গে আজীবন থাকতে চাই। আমি গড়তে ভালোবাসি, ভাঙতে নয়।’
স্বরলিপি ভট্টাচার্য