


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ম্যানহোল থেকে মিলল কাঁড়ি কাঁড়ি খালি মদের বোতল! প্লাস্টিক ও কাচ, দুই ধরনের বোতলই আছে তার মধ্যে। এর আগে ম্যানহোল থেকে গুচ্ছ গুচ্ছ প্লাস্টিকের পাশাপাশি বিছানা, তোষক, এমনকী সোফার অংশবিশেষও মিলেছে। কখনও মদের বোতলও যে পাওয়া যায় না, এমন নয়। কিন্তু একটি মাত্র অঞ্চলের নিকাশিনালায় এত বেশি মদের বোতল উদ্ধারের ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না বলেই জানাচ্ছেন কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগের কর্তারা। ঘটনাটি ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের রামলাল বাজার অঞ্চলের। সেখানকার ভূগর্ভস্থ নিকাশি সাফাই করতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখে চোখ কপালে উঠেছে পুরকর্মীদের।
রামলাল বাজার, বিহারী মণ্ডল রোড, পূর্বাচল মেইন রোডের একাংশ, সুকান্ত সরণি, রজনীকান্ত দাস রোড সহ ই এম বাইপাস সংলগ্ন ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন রাস্তার নীচের নিকাশিতে ডিসিল্টিং বা পলি তোলার কাজ হয়েছে। ক্যাচপিট থেকে শুরু করে গালিপিট, ম্যানহোল জঞ্জালমুক্ত করা হয়েছে। সেই কাজ করতে গিয়েই এই বিষয়টি নজরে আসে কর্তৃপক্ষের। সব মিলিয়ে কয়েকশো মদের বোতল উদ্ধার হয়েছে। এত সংখ্যায় কাচ এবং প্লাস্টিকের মদের বোতল কীভাবে ম্যানহোলে ঢুকল, সেই প্রশ্নও ভাবাচ্ছে পুরকর্তাদের। এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীকে সচেতন হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলার অরিজিৎ দাস ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘নিকাশিনালার ক্যাচপিট পরিষ্কার করিয়ে দেওয়ার জন্য অনেকেই আবেদন করেন। দু’-একদিনের মধ্যে সেগুলি সাফাই করে দেওয়া হয়। কিন্তু মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে কিছু করার নেই। এই ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অসচেতনতা বজায় থাকলে খাল সংস্কার এবং নিকাশিনালা পলিমুক্ত করার পরেও হয়তো বর্ষায় জল জমা ঠেকানো যাবে না।’ এখানকার নিকাশিতে কীভাবে এল এত মদের বোতল? অরিজিৎবাবু জানান, এই এলাকা সংযুক্ত কলকাতার মধ্যে পড়ে। কলকাতা পুরসভার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে থেকেই কিছু নিকাশি রয়েছে। পরবর্তীকালে সেগুলি কলকাতা পুরসভার তৈরি ভূগর্ভস্থ নালার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বহু পুরনো বাড়ি আছে, যাদের নিকাশি পুরসভার নালার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। অনেকে সরাসরি বাড়ির নালায় বোতল ফেলছেন। সেগুলি জলের স্রোতে পুরসভার নালায় চলে আসছে। যদিও গালিপিট উঠিয়ে বোতল ফেলে দেওয়া বা কোথাও গালিপিট না থাকলে সেখানে সরাসরি বোতল ফেলে দেওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেননি তিনি।